বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সেফ হোম থেকে কোভিড হাসপাতালে উন্নিত হচ্ছে বীরভূমের পরিত্যক্ত যক্ষ্মা হাসপাতাল
নিরাময় যক্ষ্মা হাসপাতাল। ফাইল ছবি
নিরাময় যক্ষ্মা হাসপাতাল। ফাইল ছবি

সেফ হোম থেকে কোভিড হাসপাতালে উন্নিত হচ্ছে বীরভূমের পরিত্যক্ত যক্ষ্মা হাসপাতাল

  • এখানে শুধু এইচডিইউ নয়, সিসিইউ–ও তৈরি করা হচ্ছে। থাকবে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সাপ্লাই লাইনের মতো পরিকাঠামো। রাতদিন রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে যাতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও করা হবে।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে এবার কোভিড হাসপাতালে উন্নিত হচ্ছে দুবরাজপুরের নিরাময় যক্ষ্মা হাসপাতালের সেফ হোম। পুজোর পরে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে বীরভূম জেলায় করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এই নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যে দুবরাজপুরের ওই সেফ হোম পরিদর্শন করে গিয়েছে পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল। সঙ্গে ছিলেন জেলা স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কর্তারাও।

গত ৮ বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছিল দুবরাজপুরের নিরাময় যক্ষ্মা হাসপাতালটি। বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় করোনা রোগীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জুন মাসে কোভিড হাসপাতাল গড়ার প্রয়োজন পড়লে জনবহুল এলাকা দূরে অবস্থিত এই হাসপাতালটিকে বেছে নেয় প্রশাসন। ঠিক হয়, এখানের তিনটি ব্লক মিলিয়ে ১৬০ বা তারও বেশি শয্যার কোভিড হাসপাতাল ‌‌গড়ে তোলা হবে। কিন্তু ততটা হাল ফেরানো সম্ভব না হওয়ায় শেষমেষ ১৫০ শয্যার সেফ হোম গড়ে ওঠে ওই হাসপাতালে।

এ‌র পর পুজো–পরবর্তী অবস্থায় রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার দু’‌হাজারেরও বেশি কোভিড হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়। তার মধ্যে নিরাময় সেফ হোমে ১৫টি এইচডিইউ গড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। একইসঙ্গে বীরভূম প্রশাসনের আবেদনে সারা দিয়ে এই সেফ হোমকে কোভিড হাসপাতালে উন্নিত করতে বলা হয়েছে। জেলার চিকিৎসকদের বক্তব্য, ‘‌এখন করোনা আক্রান্তদের কাজে লাগবে এই হাসপাতাল। আর কোভিড পরবর্তী সময়ে সকল রোগী সুবিধা নিতে পারবে এখানকার চিকিৎসা পরিষেবার।’‌

জানা গিয়েছে, এখানে শুধু এইচডিইউ নয়, সিসিইউ–ও তৈরি করা হচ্ছে। থাকবে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সাপ্লাই লাইনের মতো পরিকাঠামো। রাতদিন রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে যাতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থাও করা হবে। গোটা হাসপাতাল চত্বরে প্রায় ৩০টি আবাসন তৈরি করা হতে পারে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিক পরিদর্শনে এ সব পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরা।

উল্লেখ্য, ৯ নভেম্বর, সোমবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য দফতরের কোভিড বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বীরভূম জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন। সুস্ত হয়ে হয়ে উঠেছেন ৪০ জন। সোমবার করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১ জন। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬১ বীরভূমবাসীর। এই মুহূর্তে ৬২০টি অ্যাকটিভ কেস রয়েছে বীরভূম জেলায়।

বন্ধ করুন