বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > কয়লা পাচার কাণ্ডে ৪ রাজ্যের ৪৫টি ঠিকানায় সিবিআই-এর তল্লাশি, উদ্ধার ৪০ লাখ টাকা
কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে শনিবার চার রাজ্যের ৪৫টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালাল সিবিআই।
কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে শনিবার চার রাজ্যের ৪৫টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালাল সিবিআই।

কয়লা পাচার কাণ্ডে ৪ রাজ্যের ৪৫টি ঠিকানায় সিবিআই-এর তল্লাশি, উদ্ধার ৪০ লাখ টাকা

  • পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি হানা দেওয়া হয় বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তর প্রদেশের একাধিক স্থানে।

কয়লা পাচার কাণ্ডে শনিবার চার রাজ্যের ৪৫টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালাল সিবিআই। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি হানা দেওয়া হয় বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তর প্রদেশের একাধিক স্থানে। 

২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুমতি প্রত্যাহার করা সত্ত্বেও কয়লা পাচার কাণ্ডে এই নিয়ে পঞ্চম এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। প্রধান অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার বিরুদ্ধে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস সংস্থার দুই জেনারেল ম্যানেজার ও তিন নিরাপত্তা আধিকারিকের সঙ্গে যোগসাজশে এই পাচার চক্র চালানোর অভিযোগ দায়ের করেছে সিবিআই।

এর আগে কেন্দ্রীয় প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত মামলায় আর্থিক অনিয়মের কারণে  গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে কয়লা মন্ত্রকের কয়েক জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এ ছাড়া গরু পাচার কাণ্ডে এক বিএসএফ কম্যান্ডারের বিরুদ্ধে এবং ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস-এর দুই বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধেও (বিএসআইএস) এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। তা ছাড়া অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধেও। 

এই বিষয়ে সিবিআই মন্তব্য করতে নারাজ হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত ১২ মার্চ জনৈক রমেশ চন্দ্র সিং এবং অন্যান্যরা বনাম সিবিআই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া রায় কাজে লাগিয়েই রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রত্যাহারের পরেও অনুসন্ধান বন্ধ রাখেনি সিবিআই। 

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা জানিয়েছেন, ‘এনডিএ ছেড়ে গিয়েছে সব জোটসঙ্গী। তবে এখনও তাদের কয়েক জন বিশ্বস্ত সঙ্গী রয়ে গিয়েছে যেমন সিবিআই, ইডি ইত্যাদি। এখন নির্বাচনের মরশুম। তাই মোদী-শাহরা ফের উঠেপড়ে লেগেছেন।’

ডিএসপিই আইনের ৬ নম্বর ধারায় রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে অনুসন্ধান চালানোর অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ আটটি রাজ্য। তালিকায় বাকিদের মধ্যে রয়েছে রাজস্থান, মিজোরাম, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, কেরালা ও ছত্তিশগড়। বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির দাবি, তাঁদের নিশানা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ শানাতে সিবিআই-কে ব্যবহার করছে কেন্দ্র। 

তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৪০ লাখ টাকা। কয়লা পাচার পাণ্ডে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন অনুপ মাঝি ওরফে লালা, পাণ্ডবেশ্বরে ইসিএল-এর জেনারেল ম্যানেজার অমিত কুমার ধর এবং কাজোরা এলাকার জেনারেল ম্যানেজার জয়েশ চন্দ্র রায়। এ ছাড়া গ্রেফতার হয়েছেন ইসিএল-এর প্রধান নিরাপত্তা আধিকারিক তন্ময় দাস ও সিকিউরিটি ইন-চার্জ দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। 

শনিবার রাতে সিবিআই-এর জেরার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন কুনুস্তোরিয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইন্সপেক্টর ধনঞ্জয় রায়।

বন্ধ করুন