বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > স্কুলেই দুই স্যারের মারপিট, আতঙ্কে পড়ুয়ারা, ক্লাসে ঘুমোন শিক্ষক, বিক্ষোভ নদিয়ায়

স্কুলেই দুই স্যারের মারপিট, আতঙ্কে পড়ুয়ারা, ক্লাসে ঘুমোন শিক্ষক, বিক্ষোভ নদিয়ায়

শিক্ষকদের মারপিটের জেরে আতঙ্কে পড়ুয়ারা। প্রতীকী ছবি REUTERS/Raquel Cunha (REUTERS)

শুধু এদিনের মারপিট নয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একেবারে ভুরি ভুরি অভিযোগ অভিভাবকদের। এদিন এসব কথাবার্তার মধ্যেই এক শিক্ষক অভিযোগ করেন যে তাঁর এক সহকর্মী বেঞ্চ নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন। সেই অভিযোগ শুনে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন অভিভাবকরা।

স্কুলে কচিকাঁচাদের মধ্যে মারপিটের বহু নজির আছে। আবার গলায় গলায় ভাবও হয় তাদের। তবে এখানে ছাত্রদের মধ্য়ে মারপিট নয়। এখানে মারপিট শিক্ষকদের মধ্যে। সূত্রের খবর, রুটিন নিয়ে প্রথমে বচসা দুই শিক্ষকের মধ্য়ে। আর সেই বচসা থেকে মারপিট। এদিকে স্যারেদের মধ্যে মারপিট দেখে বুক শুকিয়ে যায় ছাত্রদের। যাঁদের চক ডাস্টার নিয়ে ক্লাসে দেখা যায়, যাঁদের আচরণ দেখে শিক্ষা পায় ছাত্র ছাত্রীরা, সেই শিক্ষকরাই জড়িয়ে পড়লেন মারপিটে। নদিয়ার তেহট্টের পাথরঘাটা গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা।

সূত্রের খবর, পড়ুয়াদের রুটিন নিয়ে ঝগড়ার সূত্রপাত। এরপর শুরু হয় মারপিট। অন্যান্য শিক্ষকরা কোনওরকমে এসে তাঁদের থামান। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিভাবকদের মধ্যে তুমুল ক্ষোভ জন্মায়। মঙ্গলবার স্কুলের সামনে এসে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি শিক্ষকরা মারপিটে জড়িয়ে পড়ায় পড়ুয়াদের মধ্যেও আতঙ্ক দানা বেঁধেছে।

অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে মারপিট করছেন। সেই স্যারেদের কাছ থেকে কী শিখবে ছাত্রছাত্রীরা?

তবে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক এদিন জানিয়েছেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে রুটিন নিয়ে একটু বচসা হয়েছিল। এদিকে এদিন স্কুল পরিদর্শকও স্কুলে আসেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।

তবে শুধু এদিনের মারপিট নয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একেবারে ভুরি ভুরি অভিযোগ অভিভাবকদের। এদিন এসব কথাবার্তার মধ্যেই এক শিক্ষক অভিযোগ করেন যে তাঁর এক সহকর্মী বেঞ্চ নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন। সেই অভিযোগ শুনে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন অভিভাবকরা।

তাঁদের অভিযোগ, স্কুলের পড়াশোনার মান একেবারে তলানিতে গিয়েছে। অধিকাংশ টিচারই দেরি করে স্কুলে আসেন। এমনকী ক্লাসে গিয়েও মোবাইলে ব্য়স্ত থাকেন তারা। ক্লাসে গিয়ে ঢুলতে থাকেন শিক্ষকদের একাংশ। ছাত্রছাত্রীরা আদৌ পড়াশোনা করছে কি না তা নিয়ে একেবারেই নজর নেই তাঁদের। এদিকে এই ভুরি ভুরি অভিযোগকে ঘিরে অস্বস্তিতে পড়ে যান স্কুল শিক্ষকদের অনেকেই।

অভিভাবকদের একাংশের দাবি, অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো হয়। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা যদি মারপিট করেন তবে সেই স্কুলে আর কী হবে? একেবারেই আসি যাই মাইনে পাই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পড়াশোনার মান নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা নেই। স্কুলে আসারও কোনও সময় নেই। যখন খুশি আসছেন। আবার যখন খুশি বেরিয়ে যাচ্ছেন। এর জেরে সংকটে শিশুদের ভবিষ্যৎ।

এই খবরটি আপনি পড়তে পারেন HT App থেকেও। এবার HT App বাংলায়। HT App ডাউনলোড করার লিঙ্ক https://htipad.onelink.me/277p/p7me4aup

 

বন্ধ করুন