বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > Alipurduar: এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফ, ৮ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে বনকর্মীদের ফাঁদে চিতাবাঘ
খাঁচাবন্দি চিতাবাঘ। ফাইল ছবি।

Alipurduar: এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফ, ৮ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে বনকর্মীদের ফাঁদে চিতাবাঘ

  • আলিপুরদুয়ারের পূর্ব কাঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শীলবাড়িহাট ঘাটপার গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে চিতাবাঘ যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল তাতে ঘুম উড়েছিল এলাকাবাসীদের। মাত্র ২ দিনে চিতাবাঘের হানায় স্থানীয় বাসিন্দা-সহ ১০ জন কর্মী জখম হয়েছিলেন।

তিন দিন ধরে আতঙ্ক ছড়ানোর পর অবশেষে বনকর্মীদের ফাঁদে পড়ল আলিপুরদুয়ারের ত্রাস চিতাবাঘ। গতকাল ঘুমপাড়ানি ওষুধের সাহায্যে চিতাবাঘটিকে কাবু করতে সক্ষম হন বনকর্মীরা। তারা তিনদিন ধরে চিতাবাঘকে ধরার চেষ্টা করছিলেন। খাঁচা পাতা হয়েছিল এলাকায়। খাঁচায় ছাগলের টোপ দিয়েও লাভ হয়নি। অবশেষে চিতাবাঘ ধরা পড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয়রা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিতাবাঘটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জলদাপাড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএফও পারভিন কাসওয়ান জানিয়েছেন।

আলিপুরদুয়ারের পূর্ব কাঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শীলবাড়িহাট ঘাটপার গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে চিতাবাঘ যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল তাতে ঘুম উড়েছিল এলাকাবাসীদের। মাত্র ২ দিনে চিতাবাঘের হানায় স্থানীয় বাসিন্দা-সহ ১০ জন কর্মী জখম হয়েছিলেন। তাদের চিকিৎসা চলছে শীলবাড়িহাট এবং আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। চিতাবাঘটি ধরতে না পারার জন্য স্থানীয়রা বনবিভাগের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, চিতাবাঘ ধরা নিয়ে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি বনবিভাগ। প্রথমে তারা এই প্রাণীকে পাগলা কুকুর বলে দাবি করেছিল।

গত রবিবার আবদুস সালাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা পুকুরপাড়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা চিতাবাঘ তার ওপর হামলা চালায়। একইভাবে সেখানে সজনে পাতা আনতে গিয়ে রেজিনা বিবি নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার ওপরও হামলা চালায় চিতা। তিনি পালাতে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পেয়েছিলেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবাবরের সদস্যরা। এর পরে এলাকাবাসীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন চিতাবাঘটিকে দ্রুত ধরা না হলে তারা ওই প্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলবেন।

সোমবার এলাকায় এক গ্রামবাসীর বাড়ির পিছনের গর্তে চিতাবাঘটিকে লুকিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় জাল দিয়ে ওই জায়গা ঘিরে রাখেন বনকর্মীরা। কিন্তু, ওই প্রাণীটিকে বাগে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে শিলতোর্সা নদীর ধারে চিতাবাঘটিকে দেখা যায়। এরপর খবর পেয়ে বনকর্মীরা সেখানে আসেন। কিন্তু ,ততক্ষণে চিতাবাঘ উঠে পড়ে একটি সুপারি গাছে। সেখান থেকে চিতাবাঘটিকে নামাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছিল বনকর্মীদের। পুরো জায়গা নাইলনের জল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। চিতাবাঘকে সুপারি গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা করলে সেখান থেকে লাফিয়ে পাশের একটি আম গাছে চলে যায় চিতাবাঘ। অবশেষে দমকলের মই ব্যবহার করে ঘুমপাড়ানি গুলির সাহায্যে চিতাবাঘকে প্রায় ৮ ঘণ্টার চেষ্টায় বাগে আনা সম্ভব হয়।

বন্ধ করুন