বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > দাউদাউ করে জ্বলছে পুরুলিয়ার পাহাড়ি বন, আগুন নেভাতে অন্তরায় প্রকৃতি
দাউদাউ করে জ্বলছে পুরুলিয়ার পাহাড়ি বন, আগুন নেভাতে অন্তরায় প্রকৃতি। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
দাউদাউ করে জ্বলছে পুরুলিয়ার পাহাড়ি বন, আগুন নেভাতে অন্তরায় প্রকৃতি। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

দাউদাউ করে জ্বলছে পুরুলিয়ার পাহাড়ি বন, আগুন নেভাতে অন্তরায় প্রকৃতি

বহু বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর আশঙ্কা, এই পাহাড় চূড়ায় ওঠার কোনও রাস্তাই নাকি নেই! খুবই দুর্গম হওয়ায়, আগুন নেভাতে অপারগ তাঁরা। সেজন্য প্রকৃতির উপরেই ব্যাপারটা ছেড়ে দিয়েছে বন দফতর ও দমকলের কর্মীরা

আগুন লেগে গেল পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের বরন্তি সংলগ্ন জঙ্গলে। ওই বনাঞ্চলে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলেই চলেছে। তবে তা নেভাতে অপারগ প্রশাসন। বহু বন্যপ্রাণীর প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২৫ কিলোমিটার দূর থেকেও লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর বনাঞ্চলের সাঁতুড়ি বিটের রামচন্দ্রপুরের প্রায় আড়াইশো ফুট উঁচু পাহাড়ে।

কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন বন দফতর ও দমকলের কর্মীরা। পাহাড়ি বনাঞ্চলটি পুরুলিয়ার কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের অন্তর্গত রঘুনাথপুর রেঞ্জের আওতায় পড়ছে। তাঁদের ব্যাখ্যা, এই পাহাড় চূড়ায় ওঠার কোনও রাস্তাই নাকি নেই! খুবই দুর্গম হওয়ায়, আগুন নেভাতে অপারগ তাঁরা। সেজন্য প্রকৃতির উপরেই ব্যাপারটা ছেড়ে দিয়েছেন বন দফতর ও দমকলের কর্মীরা।

রেঞ্জের বনকর্মীদের দাবি, এক সময় প্রকৃতির আপন নিয়মেই এই আগুন নিভে যাবে। রামচন্দ্রপুর পাহাড়ে আগুন লাগার খবর বুধবার সন্ধ্যায় গ্রামবাসীরা বন দফতরকে দিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারারাত ‘ফায়ার ব্লোয়ারের সাহায্যে পাহাড়ের নীচের অংশের আগুন নিভিয়েছিলেন। কিন্তু পাহাড় চূড়ায় আগুন নেভাতে সক্ষম হননি তাঁরা। সেজন্য মানুষজনকে সতর্ক করার পর ভোররাতে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন দমকলকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে রঘুনাথপুর রেঞ্জের আধিকারিক বিবেক ওঝা বলেন, ‘২৫০ ফুট উঁচু পাহাড় চূড়ায় আগুন জ্বলছে। ওখানে ওঠার কোনও রাস্তা নেই। খুবই দুর্গম। তাই আমাদের সত্যিই আর কিছু করার নেই।’‌

গ্রামবাসীরা দাবি, বনাঞ্চলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানি হবে বহু বন্যপ্রাণীর। তবে বন দফতরের দাবি, এই পাহাড়-জঙ্গলে তেমন কোনও বন্যপ্রাণ নেই। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশের প্রশ্ন, যে পাহাড়ে ওঠার কোনও রাস্তাই নেই বলে দাবি করছে বন দফতর, সেখানে কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন তাঁরা যে বন্যপ্রাণ নেই? তাঁদের দাবি, রামচন্দ্রপুর পাহাড়ে হরিণ না থাকলেও হায়না, শেয়াল, বুনো খরগোশ, সজারু, বন বেড়াল, অজগর ছাড়াও বহু পাখি বসবাস করে।

বন্ধ করুন