বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > উপনির্বাচনের চার কেন্দ্রেই ‌তৃণমূলের জয়জয়কার, নেপথ্যে কোন সমীকরণ?‌ জানুন
তৃণমূল কংগ্রেসের ঝড়ে ফিকে হয়ে গেল গেরুয়া শিবির।
তৃণমূল কংগ্রেসের ঝড়ে ফিকে হয়ে গেল গেরুয়া শিবির।

উপনির্বাচনের চার কেন্দ্রেই ‌তৃণমূলের জয়জয়কার, নেপথ্যে কোন সমীকরণ?‌ জানুন

  • এই চার কেন্দ্রে বিজেপি কেন ধরাশায়ী হল?‌ তৃণমূল কংগ্রেস কেন সাফল্য পেল?‌ কোন ম্যাজিক কাজ করল?‌

আজ উপনির্বাচনের ডার্বি ম্যাচে ফলাফল দাঁড়িয়েছে ৪–০। চারটি আসনেই জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর গোহারা হেরেছে বিজেপি। খড়দহ, শান্তিপুর, দিনহাটা এবং গোসাবা—কোথাও বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বিজেপি। সেখানে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের ঝড়ে ফিকে হয়ে গেল গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই চার কেন্দ্রে বিজেপি কেন ধরাশায়ী হল?‌ তৃণমূল কংগ্রেস কেন সাফল্য পেল?‌ কোন ম্যাজিক কাজ করল?‌ এবার জেনে নেওয়া যাক।

খড়দহ—এখানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি ৯৩ হাজার ৮৩২ ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির জয় সাহাকে পরাজিত করেছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট—১১৪০৮৬। বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন–২০২৫৪। আর বামফ্রন্ট প্রার্থী পেয়েছেন ১৬১১০। এখানে একটা সহানুভূতি কাজ করেছে। তা হল– কাজল সিনহার মৃত্যু। তিনি এখানকার জননেতা ছিলেন। একুশের নির্বাচনেও তিনি জিতেছিলেন। পাশাপাশি এখানকার জুটমিল বন্ধ ছিল। যা খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি প্রকল্প প্রত্যেকের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। তাই জয় একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। বিজেপির এখানে কেউ কোনও কাজ দেখতে পায়নি। বরং লাগাতার পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বিজেপিকে হারিয়েছে।

শান্তিপুর—এই কেন্দ্র থেকে একুশের নির্বাচনে জিতেছিলেন বিজেপির জগন্নাথ সরকার। কিন্তু তিনি বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়ে সাংসদ পদকেই ধরে রাখেন। ফলে মানুষ ভোট দিয়েও এখানে কোনও পরিষেবা পায়নি। এই সুযোগে তৃণমূল কংগ্রেস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার–সহ একাধিক প্রকল্প নিয়ে মানুষের দরজায় দরজায় কড়া নেড়েছে। এই উদাহরণ তুলে ধরে ভোট চেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে বিজেপির কাছ থেকে এভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বিজেপিকে মানুষ ভোট দেয়নি। দলের ভোট পেয়েছে তারা। আবার কংগ্রেসের পুরো ভোট তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়ে পড়েছে। তাই এখানকার ফলাফল দাঁড়িয়েছে—তৃণমূল কংগ্রেস–১১২০৮৭, বিজেপি–৪৭৪১২, বামফ্রন্ট–৩৯৯৫৮ এবং কংগ্রেস–২৮৭৭। আর মথুয়া ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়ে পড়েছে।

দিনহাটা—এখানে একুশের নির্বাচনে জিতেছিলেন বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। কিন্তু তিনিও নিজের সাংসদ পদ ধরে রেখেছিলেন। আর বিধায়ক পদ ত্যাগ করেছিলেন। ফলে মানুষ সমস্যায় পড়ে বিধায়ককে কাছে পাননি। তখন থেকে জেলা চষে বেরিয়েছেন উদয়ন গুহ। আর যতটা পেরেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে ভোটগণনার শুরুতেই দেখা যায় নিশীথের কেন্দ্রেই পরাজিত হয়েছে বিজেপি। এছাড়া এখানের ভূমিপুত্র হলেন উদয়ন গুহ। এখন সরকারে তৃণমূল কংগ্রেস। এইসব ফ্যাক্টর কাজ করেছে। তাই ৬ মাসের ব্যবধানে পাল্টে গেল ফলাফল। এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট–১৮৯৫৭৫, বিজেপি প্রাপ্ত ভোট–২৫৪৮৬ এবং বামফ্রন্ট–৬২৯০।

গোসাবা—এখানেও হেরেছে বিজেপি। কারণ একুশের নির্বাচনে এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জয়ন্ত নস্কর প্রয়াত হয়েছিলেন। তাই এখানে উপনির্বাচন হয়েছে। সেখানে একটা সহানুভূতি কাজ করেছিল। তাছাড়া এই কেন্দ্রে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বিধায়ক লাভলি মৈত্র এসে প্রচার করেছিলেন। এখানে আমফানে, ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যেকের কাছে ত্রান পৌঁছে দিয়েছিল। এখানে সরকারি প্রকল্প গ্রামীণস্তর পর্যন্ত পৌঁছেছিল। যার জন্য এখানের ফলাফল হয়েছে—তৃণমূল কংগ্রেস–১৬১৪৭৪, বিজেপি–১৮৪২৩ এবং বামফ্রন্ট–৩০৭৮।

বন্ধ করুন