বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > বেসরকারি সংস্থায় লগ্নির নামে প্রতারণা, শিলিগুড়ি থেকে ধৃত ২ ভিন রাজ্যের বাসিন্দা
বেসরকারি সংস্থায় লগ্নির নামে প্রতারণা, শিলিগুড়ি থেকে ধৃত ২ ভিনরাজ্যের প্রতারক। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)
বেসরকারি সংস্থায় লগ্নির নামে প্রতারণা, শিলিগুড়ি থেকে ধৃত ২ ভিনরাজ্যের প্রতারক। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)

বেসরকারি সংস্থায় লগ্নির নামে প্রতারণা, শিলিগুড়ি থেকে ধৃত ২ ভিন রাজ্যের বাসিন্দা

  • বেসরকারি সংস্থায় টাকা লগ্নি করলে মোটা অঙ্কের লাভ হবে, এই লোভ দেখিয়ে মুম্বাইয়ের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এই দুই অভিযুক্ত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে হানা দেয় মুম্বাইয়ের লোকমান্য তিলক থানার পুলিশ। হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের।

বেসরকারি সংস্থায় বিনিয়োগের নামে কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল দুই ভিন রাজ্যের প্রতারককে। বেসরকারি সংস্থায় টাকা লগ্নি করলে মোটা অঙ্কের লাভ হবে, এই লোভ দেখিয়ে মুম্বইয়ের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এই দুই অভিযুক্ত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে হানা দেয় মুম্বইয়ের লোকমান্য তিলক থানার পুলিশ। হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের।

সোমবার দুপুর ১২ নাগাদ শিলিগুড়ি বিধান রোডের একটি হোটেলে হানা দিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। লোকমান্য তিলক থানার এসআই সুদর্শন প্যাটেল বলেন, ‘‌ আমাদের কাছে ১৯ তারিখে অভিযোগ দায়ের করা হয়। দু’‌কোটি টাকার লগ্নির নামে ‘‌আওয়ারা পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড’‌ নামের সংস্থা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ওই অঙ্কের টাকা নেয়। সংস্থার তরফ থেকে ওই ব্যক্তিকে জানানো হয়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রশিদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই ব্যক্তি সংস্থার দফতরে গিয়ে দেখেন, যেখানে তালা দেওয়া রয়েছে।’‌

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ের বাসিন্দা প্রতারিত ওই ব্যক্তি গত ১৯ জুলাই লোকমান্য তিলক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে, ওই বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা বিনিয়োগের নামে তাঁকে মোটা অঙ্কের লাভের লোভ দেখিয়েছিল। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেন তিনি। প্রতারিতকে মুম্বইয়ের একটি হোটেলে ডাকা হয়। সেখানে টাকা নিয়ে পৌঁছন তিনি। তারপর হোটেলের একটি ঘরে বৈঠক করা হয়। সেখানেই ওই সংস্থার প্রতিনিধিদের হাতে দু’‌কোটি টাকা তুলে দেন ওই ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ, টাকা হস্তান্তর হতেই তাঁকে হোটেলের ওই ঘরে বসিয়ে রেখে অপেক্ষা করতে বলা হয়। ওই টাকার রশিদ আনতে যাওয়ার নাম করে সেখান থেকে চম্পট দেয় সংস্থার প্রতিনিধিরা বলে অভিযোগ।

অনেক্ষণ অপেক্ষা করার পরও অভিযুক্তদের না ফিরতে দেখে তাঁদের নম্বরে ফোন করেন প্রতারিত। তিনি দেখেন যে ফোন থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সেটি সুইচ অফ রয়েছে। তখনই সন্দেহ হয় ওই ব্যক্তির। তিনি সংস্থার দফতরে গিয়ে দেখেন, সেখানে তালা ঝোলানো রয়েছে। এর পরই পুলিশের দারস্থ হন তিনি। প্রতারিত ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে লোকমান্য তিলক থানার পুলিশ। প্রথমেই ওই বেসরকারি সংস্থার ৪ জন প্রতিনিধিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই দুই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পলাতকদের ফোন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে যে, তাদের অবস্থান এ রাজ্যের শিলিগুড়িতে রয়েছে।

এরপরই মুম্বই পুলিশের একটি বিশেষ দল শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। শিলিগুড়িতে পৌঁছে সেখানকার পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুম্বইয়ের ওই দলটি। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সাহায্যে রবিবার রাতে শিলিগুড়ি হোটেলে হানা দেয় মুম্বই পুলিশের বিশেষ দলটি। সেখান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

 

বন্ধ করুন