বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ভোটের আগে পাহাড়ে নিশ্চিন্ত গেরুয়া শিবির, বিজেপি–র সঙ্গে জোট আর এক গোর্খা সংগঠনের
জিএনএলএফ ও বিজেপি–র প্রতীক
জিএনএলএফ ও বিজেপি–র প্রতীক

ভোটের আগে পাহাড়ে নিশ্চিন্ত গেরুয়া শিবির, বিজেপি–র সঙ্গে জোট আর এক গোর্খা সংগঠনের

  • বৃহস্পতিবার রাতে জিএনএলএফের দার্জিলিং শাখার সভাপতি অজয় এডওয়ার্ডস ‌‘‌হিন্দুস্তান টাইম্‌স’‌–কে বলেছেন, ‘‌২০১৯–এ লোকসভা নির্বাচনের সময় আমরা বিজেপি–র সঙ্গে জোট বেঁধেছিলাম, সেই জোট বিধানসভা নির্বাচনেও আমরা রাখতে চাই।’‌

সম্প্রতি বিজেপি–কে ছেড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। তার পর থেকেই পাহাড়ে নতুন নির্বাচনী জোটের সন্ধান করছিল গেরুয়া শিবির। এমন সময় বিজেপি–র প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা জানাল গোর্খা ন্যাশনাল লিব্যারেশন ফ্রন্ট (‌জিএনএলএফ)‌।

বৃহস্পতিবার রাতে জিএনএলএফের দার্জিলিং শাখার সভাপতি অজয় এডওয়ার্ডস ‌‘‌হিন্দুস্তান টাইম্‌স’‌–কে বলেছেন, ‘‌২০১৯–এ লোকসভা নির্বাচনের সময় আমরা বিজেপি–র সঙ্গে জোট বেঁধেছিলাম, সেই জোট বিধানসভা নির্বাচনেও আমরা রাখতে চাই।’‌ এ ব্যাপারে রাজ্য বিজেপি–র সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেছেন, ‘জিএনএলএফের সঙ্গে জোট বেঁধে ‌আসন্ন নির্বাচনে আমরা লড়াই করব।’‌

এদিনই দার্জিলিংয়ের একাধিক ছোট রাজনৈতিক দলের নেতারা দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে তাঁরা মন্ত্রীর সঙ্গে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুর স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি ১১টি গোর্খা সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এদিন বিজেপি–র সঙ্গে জোট বাঁধার ঘোষণা করেন অজয় এডওয়ার্ডস।

দিল্লিতে এদিনের বৈঠকে জিএনএলএফের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টি অফ রেভলিউশনারি মার্ক্সিস্ট, অল ইন্ডিয়া গোর্খা লিগ–সহ দার্জিলিংয়ের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন। বৈঠকে ছিলেন বিজেপি–র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত।

১৯৮০ সালে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়ে প্রথম সশস্ত্র আন্দোলনের সূচনা করেন জিএনএলএফ। তখন এর নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ ঘিসিং। কিন্তু সাম্প্রতিককালে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার উত্থানের কারণে পাহাড়ে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জিএনএলএফ। বেশ কয়েক বছরে এর সাংগঠনিক ক্ষমতায় কমেছে।

এদিন সন্ধেবেলা একটি বিবৃতি জারি করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত। তাতে বলা হয়েছে, ‘‌কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি ইতিমধ্যে ১১টি গোর্খা সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, এই কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় তার জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (‌আরজেআই)‌ সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।’‌

বন্ধ করুন