বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > করোনা আক্রান্ত ঠাকুমাকে তাজপুর সমুদ্র সৈকতে ফেলে পালাল নাতি!
করোনা আক্রান্ত ঠাকুমাকে দিঘার সমুদ্রের পাড়ে ফেলে পালাল নাতি! (‌ছবি স্ক্রিনগ্র‌্যাব)‌
করোনা আক্রান্ত ঠাকুমাকে দিঘার সমুদ্রের পাড়ে ফেলে পালাল নাতি! (‌ছবি স্ক্রিনগ্র‌্যাব)‌

করোনা আক্রান্ত ঠাকুমাকে তাজপুর সমুদ্র সৈকতে ফেলে পালাল নাতি!

  • চরম অমানবিকতার সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য

মানু্ষ কতটা অমানবিক হতে পারে তার সাক্ষী থাকল সমুদ্রের ঢেউ।ওষুধ কিনতে যাওয়ার নাম করে করোনা আক্রান্ত ঠাকুমাকে ‌তাজপুর সমুদ্র সৈকতে ফেলে পালিয়ে গেল নাতি! অভিযোগ উঠেছে, শ্যামবাজারের বাসিন্দা বছর সত্তরের ওই বৃদ্ধাকে তাঁর নাতি তাজপুরের মেরিন ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে সেখানে বসিয়ে রেখে চলে গিয়েছে। চরম সংকটের সময় কাঁধ থেকে দায়বদ্ধতা ঝেড়ে ফেলতে এই অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই বৃদ্ধা করোনা আক্রান্ত বলেই তাঁকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছেন তাঁর নাতি।

বৃহস্পতিবার রাতে মেরিন ড্রাইভের ধারে ওই বৃদ্ধাকে ঠায় বসে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা খোঁজ নিতেই গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

একেতে করোনা রোগী, হাতে স্যালাইনের চ্যানেল লাগানো, তার উপর নাক—মুখ থেকে অবিরাম লালা ঝরছে। এই অবস্থায় আতঙ্কে তাঁর কাছে যেতে কেউ সাহস পাননি। দূর থেকেই তাঁকে দেখছিলেন সকলে। সারা রাত সমুদ্রের পাড়ে ওই ভাবেই অসহায় অবস্থায় বসে থাকেন ওই বৃদ্ধা। এমনকী, সকালেও দেখা যায়, তিনি ওইভাবেই সমুদ্র পাড়ে বসে রয়েছেন।পরে অবশ্য দূর থেকেই স্থানীয়রা তাঁকে প্রশ্ন করে জানতে পারেন। তিনি শ্যামবাজারের বাসিন্দা।

ওই বৃদ্ধা জানিয়েছেন, তাঁর নাতি গাড়ি থেকে তাঁকে নামিয়ে দেন। তার পর ‘‌তুমি বসো, আমি ‘ওষুধ কিনে ফিরছি’, বলে চলে যান।পরে আর ফিরে আসেননি। স্থানীয় বাসিন্দারাই মন্দারমনি কোস্টাল থানায় খবর দেন। এর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারাই ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে দিঘা রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে ভরতি করানোর ব্যবস্থা করে। ওই হাসপাতালেই এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কোস্টাল থানার পুলিশ।

গোটা দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। বাদ যায়নি এরাজ্যও। গত বছরের তুলনায় আরও বেশি আক্রমনাত্মক হয়ে উঠেছে মারণ ভাইরাস। লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এবারের করোনা যুদ্ধে নাকাল হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যবিভাগও। কোথাও বেডের আকাল, তো কোথাও অক্সিজেনের অভাব। ফলে, যথাযথ চিকিৎসাই পাচ্ছেন না—বলে অভিযোগ তুলছেন রোগীর আত্মীয়রা। সেকারণে মৃত্যুর তালিকাও লম্বা হচ্ছে। একই সঙ্গে করোনা রোগীদের প্রতি মানুষের উদাসীনতা আরও বেশি করে প্রকাশ্যে চলে আসছে। তারই প্রমাণ দিঘার এই ঘটনা।

বন্ধ করুন