বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > অপরাজিতা: ডান হাত কেটে নিয়েছে স্বামী, দুদিন পরই বাঁ হাতে পেন ধরলেন রেণু
রেণু খাতুন বাঁ হাতেই লিখছেন হাসপাতালের বেডে।

অপরাজিতা: ডান হাত কেটে নিয়েছে স্বামী, দুদিন পরই বাঁ হাতে পেন ধরলেন রেণু

  • শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ডান হাতটা কব্জি থেকে কেটে নিয়েছিল তার স্বামী আর দুই বন্ধু। মঙ্গলবার দুপুরে সেই রেণুই হাসপাতালের বিছানায় বসে বাঁহাতে পেন ধরেছেন। কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা প্র্যাকটিশ করছেন। অনেকেই বলছেন, ঘরে ঘরে এমন হার না মানা রেণুরা জন্মাক। রেণুকে জিততে হবেই, না হলে হেরে যাবে বাংলা।

সরকারি চাকরি পাওয়ার অপরাধ। স্ত্রী যখন ঘুমোচ্ছিলেন তখন কব্জি থেকে হাতটা কেটে নিয়েছিলেন স্বামী। বর্তমানে দুর্গাপুরের হাসপাতালে ভর্তি তিনি। আগামী দিনে কীভাবে নার্সের চাকরিটা করবেন তা জানেন না রেনু। তবে লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যেতে রাজি নন রেণু। অদম্য জেদ। স্বামীর শাস্তি চেয়েছেন তিনি। আর চান বজায় থাকুক তাঁর সরকারি চাকরি। আর সেখানে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেকারণে হাসপাতালের বেডে বসেই বাঁ হাতে লেখা প্র্যাকটিশ শুরু করে দিলেন রেণু।

হাতে মোটা ব্যান্ডেজ। কব্জির পর থেকে আর নেই। শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ডান হাতটা কব্জি থেকে কেটে নিয়েছিল তার স্বামী আর দুই বন্ধু। আর মঙ্গলবার দুপুরে দেখা গেল সেই রেণুই হাসপাতালের বিছানায় বসে বাঁহাতে পেন ধরেছেন। কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা প্র্যাকটিশ করছেন। রেণু লিখেছেন, আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত। আমি একজন নার্স। রেণুর এই লড়াই দেখে চোখে জল এসে যাচ্ছে অনেকের। এমন লড়াকু মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। অন্য হাসপাতালে কর্মরত নার্সরাও ছুটে এসেছেন তাঁকে দেখতে।

 

তাঁরা জানিয়েছেন, কোভিড অতিমারির সময়তেও কাজ করতেন রেণু। তখনও দেখা গিয়েছিল তাঁর হার না মানা মনোভাবকে। আর রেণু বলেন, আমার স্বামীর ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিপ্লোমা ছিল। ওর দায়িত্ব ছিল জীবনে আমাকে এগিয়ে দিতে সাহায্য করা। কিন্তু ও আমাকে পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল। আমি থামার মেয়ে নই। আরও এগিয়ে যেতে চাই। আর অনেকেই বলছেন, ঘরে ঘরে এমন হার না মানা রেণুরা জন্মাক। রেণুকে জিততে হবেই, না হলে হেরে যাবে বাংলা। 

বন্ধ করুন