বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > অন্তর্বাসের মধ্যে ‘‌হেরোইন’‌ লুকিয়েও হল না শেষরক্ষা,গ্রেফতার বাবা, মেয়ে ও বৌমা
অন্তর্বাসের মধ্যে ‘‌হেরোইন’‌ লুকিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! গ্রেফতার বাবা, মেয়ে ও বৌমা। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
অন্তর্বাসের মধ্যে ‘‌হেরোইন’‌ লুকিয়েও শেষরক্ষা হয়নি! গ্রেফতার বাবা, মেয়ে ও বৌমা। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

অন্তর্বাসের মধ্যে ‘‌হেরোইন’‌ লুকিয়েও হল না শেষরক্ষা,গ্রেফতার বাবা, মেয়ে ও বৌমা

  • আসানসোলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ২২ গ্রাম হেরোইন ও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্তর্বাসের মধ্যে হেরোইন লুকিয়েও শেষ রক্ষা হল না। ঘটনায় মাদক কারবার চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হল বাবা, মেয়ে ও বৌমাকে। মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল উত্তরের বাবুয়া তালাও নালাপাড় এলাকায়। সেখানকার একটি ঝুপড়িতে ক্রেতা সেজে হানা দিয়ে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ‌একই পরিবারের চারজন সদস্যকে মাদক-‌সহ প্রথমে আটক করে পুলিশ। পরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ২২ গ্রাম হেরোইন ও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ডিসি সেন্ট্রাল কুলদীপ সোনাওয়ানে বলেন, ‘‌মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই পরিবারের ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’‌

বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশের কাছে অভিযোগ আসছিল যে, ওই এলাকায় রমরমিয়ে চলছে মাদক কারবার। কিন্তু মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্তদের হদিশ কিছুতেই পাচ্ছিল না-‌পুলিশ। অবশেষে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে যে, ওই এলাকার নালা পাড় এলাকায় ছোট্ট একটি টালির বাড়িতে এই কারবার চলছে। পুলিশ এ-ও জানতে পারে, ওই বাড়িতে থাকেন শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবুজান ও তার পরিবার। পুলিশ ‌আরও জানেত পারে, ওই ছোট্ট ঘর থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকার হেরোইনের কারবার চলছে।

এরপর মঙ্গলবার অভিযানের নামেন আসানসোলের পুলিশ আধিকারিকরা। ক্রেতা সেজে প্রথমে ওই ঝুপড়িতে যান দু’‌জন পুলিশ আধিকারিক। তারা ইশারায় বাবুজানের কাছে মাদক আছে কিনা, তা জানতে চান। শুধু তাই নয়, কত টাকা লাগবে তাও জিজ্ঞেস করেন। ক্রেতা ভেবে ছদ্মবেশে আসা পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে রফা করেন বাবুজান। তার ইশারায় বাড়ির এক মহিলা সদস্য চাহিদা অনুযায়ী হেরোইনের প্যাকেট এনে দিতেই, হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় গোটা পরিবারটি।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য শেষ চেষ্টা করেন বাবুজানের মেয়ে। পুরুষ অফিসাররা তার গায়ে হাত দিতে পারবেন না জেনেই, তড়িঘড়ি নিজের অন্তর্বাসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে হেরোইনের প্যাকেট লুকিয়ে ফেলে সে। ওদিকে পুলিশ আধিকারিকরা গোটা ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজেও মাদক না পেয়ে মহিলা পুলিশ অফিসারদের ডাকেন। তাঁরা এসে বাবু‌জানের মেয়ের দেহে তল্লাশি চালাতে শুরু করেন। সেই সময় তার অন্তর্বাসের মধ্যে থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ মাদকের প্যাকেট বেরিয়ে আসে। ঘটনার পরই ওই পরিবারের ৪ জন সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অবশ্য পরে বাবুজান-সহ তার মেয়ে ও বৌমা মিলিয়ে মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

বন্ধ করুন