বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > কোন অঙ্কে কালিয়াগঞ্জে ফুটল ঘাসফুল?
ছবি সৌজন্য (ফেসবুক Md Fakhruzzaman Noori)
ছবি সৌজন্য (ফেসবুক Md Fakhruzzaman Noori)

কোন অঙ্কে কালিয়াগঞ্জে ফুটল ঘাসফুল?

• লোকসভা ভোটে কালিয়াগঞ্জে বড়সড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তার আগে উত্তর দিনাজপুরের এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেই কেন্দ্রেই শেষ হাসি হাসল তৃণমূল কংগ্রেস।

২২ বছরে এই প্রথমবার। কালিয়াগঞ্জে ফুটল ঘাসফুল। বরাবরই কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত কালিয়াগঞ্জে লোকসভা নির্বাচনে দাপট ছিল বিজেপির। তবে উপনির্বাচনে পালটে গেল ছবিটা। কালিয়াগঞ্জে শেষ হাসি হাসল তৃণমূল কংগ্রেস। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজেপি প্রার্থী কমলচন্দ্র সরকারকে ২,৪১৪ ভোটে হারালেন তপন দেব সিনহা।

অথচ মাসপাঁচেক আগেই লোকসভা ভোটে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা থেকে ৫৬ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ৫৬ হাজারের লিড ধুয়েমুঝে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি বিজেপি নেতাকর্মীরা। লোকসভা ভোটে শুধু যে মোদী ম্যাজিকে লিড এসেছিল, সে কথা কালিয়াগঞ্জে খাটে না একেবারেই। সেখানে বিজেপির সংগঠনও যথেষ্ট ভালো। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিজেও বলেছেন, উত্তর দিনাজপুরে তাঁদের সংগঠন মজবুত। তাই এই হারে গেরুয়া শিবির যে ভালোরকম ধাক্কা খেয়েছে, তা একদমই স্পষ্ট।

আরও পড়ুন : 'তিনে তিন, বিজেপিকে বিদায় দিন', উপনির্বাচনে জয়ের পর বললেন মমতা

তাহলে তৃণমূলের পক্ষে কী কাজ করল ? রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, সীমান্তঘেঁষা কালিয়াগঞ্জে প্রায় ৫২ শতাংশ রাজবংশী ভোটার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এখানেই বাজিমাত করেছে তৃণমূল। এনআরসি-র কারণে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ফলে সেই ভোট পড়েছে তৃণমূলের ঘরে। সে কথা স্বীকার করেছেন খোদ বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন, "এনআরসি-ই হারের কারণ।" একই কথা জেলার এক বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেন, "তৃণমূল এনআরসি নিয়ে মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পেরেছে। তা আটকাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।" কালিয়াগঞ্জের ফলাফলে চমকে গেছেন খোদ তৃণমূল নেতারাও।

আরও পড়ুন : তিনে তিন : কালিয়াগঞ্জ-খড়্গপুরে প্রথম ফুটল ঘাসফুল, করিমপুর ধরে রাখল তৃণমূল

সেটা হলেও কালিয়াগঞ্জ তো কংগ্রেসের গড় ছিল। গত বিধানসভা ভোটেও ৪৬,৬০২ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন প্রমথনাথ রায়। পেয়েছিলেন ৫৩.৫ শতাংশ ভোট। তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ৬৬,২৬৬। যা কংগ্রেসের থেকে প্রায় অর্ধেক। তাহলে এনআরসি-র প্রভাবে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক কেন বাড়ল না, রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, রাজ্যে এখন কংগ্রেস ও বিজেপিকে ছাপিয়ে উঠে এসেছে বিজেপি। কট্টর কংগ্রেস ও সিপিআইএম সমর্থকরা বাদে বাকি বিজেপি বিরোধীদের ভোট যাচ্ছে তৃণমূলের দিকে। আবার একইভাবে তৃণমূল-বিরোধীদের ভোট পড়ছে বিজেপিতে। ফলে লড়াইটা তিনমুখী-চারমুখী বলা হলেও আদতে তা ধীরে ধীরে দ্বি-মুখী হচ্ছে। আর সে কারণেই বাম-কংগ্রেস জোটের এরকম হাল। উপনির্বাচনে কোনওরকম দাগ কাটতে ব্যর্থ বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী ধীতশ্রী রায়। কমলচন্দ্র সরকার যেখানে ৯৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন, সেখানে ধীতশ্রীর প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১৮,৮৫৭ ভোট।

আরও পড়ুন : 'মানুষের আশীর্বাদেই জয়', প্রতিক্রিয়া মমতার, 'এই ফল কেন, বুঝছি না', বললেন দিলীপ

প্রার্থীর নাম ও প্রাপ্ত ভোট

• তপন দেব সিনহা (তৃণমূল কংগ্রেস) - ৯৭,৪২৮ (৪৪.৬৫ শতাংশ)

• কমলচন্দ্র সরকার (বিজেপি) - ৯৫,০১৪ (৪৩.৫৪ শতাংশ)

• ধীতশ্রী রায় (কংগ্রেস) - ১৮,৮৫৭ (৮.৬৪ শতাংশ)

আরও পড়ুন : করিমপুরে বাড়ল তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান, হেভিওয়েট প্রার্থীতেও হার বিজেপির


বন্ধ করুন