বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > এরকম চললে হাওড়ায় ১৬ আসনই হাতছাড়া হবে তৃণমূলের, লক্ষ্মীর প্রতি অনুযোগ প্রসূনের
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লক্ষ্ণীরতন শুক্লা। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লক্ষ্ণীরতন শুক্লা। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

এরকম চললে হাওড়ায় ১৬ আসনই হাতছাড়া হবে তৃণমূলের, লক্ষ্মীর প্রতি অনুযোগ প্রসূনের

  • তবে শুধু জেলা সভাপতি নন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রসূন।

একজন ফুটবলার, অপরজন ক্রিকেটার। দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে দুই খেলার দুই দাপুটে প্রাক্তনীর মধ্যে ‘মান-অভিমান’-এ হাওড়ায় অস্বস্তিতে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। অনুযোগ করে হাওড়ার সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, দলে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন হয়েছে। হাওড়ার তৃণমূল সভাপতি তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে কার্যত দেখাই যায়নি বলে অভিযোগ করলেন প্রাক্তন ফুটবলার। যদিও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলতে চাননি লক্ষ্মী।

শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রসূন জানান, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যদিও হাওড়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায় জানিয়েছেন, জেলা সদর তৃণমূল কার্যালয়ের কর্মসূচিতে সবাইকে ডাকা হয়েছিল। তবে কারা কারা আসেননি, সে বিষয়টি তাঁর অজ্ঞাত বলে দাবি করেছেন অরূপ। গোষ্ঠীকোন্দলের কথাও উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে অনেকে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দেন। পাশাপাশি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েও কাজ করছেন বলে দাবি করেন অরূপ।

তাতে অবশ্য গোষ্ঠীকোন্দলের জল্পনায় ইতি পড়ছে না। বরং আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রসূন জানান, ২০১৩ সালে যে ‘সুন্দর’ তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, সেই পরিস্থিতির সঙ্গে এখন বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীকে জেলা তৃণমূলের সভাপতি করার পর আর কোনও কমিটি তৈরি করা হয়নি বলে দাবি করেন প্রসূন। দলের মধ্যেও লক্ষ্মীর কোনও তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে দাবি করেন প্রসূন। বরং সেই পরিস্থিতিতে রীতিমতো ‘হতবাক’ হাওড়ার সাংসদের আশঙ্কা, যেভাবে তৃণমূল চলছে, তাতে হাওড়ার ১৬ টি আসনের একটিতেও জয় পাবে না ঘাসফুল শিবির। কারণ কারও সঙ্গে কারও সদ্ভাব নেই। তার জেরে দলের কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রসূন। যদিও সভাপতি হিসেবে লক্ষ্মী দল পরিচালনায় ব্যর্থ কিনা, তাতে সরাসরি উত্তর দেননি। বরং বল কাটিয়ে জানান, লক্ষ্মী যে দল চালাতে ব্যর্থ, তা বলছেন না।  

লক্ষ্মী অবশ্য জানিয়েছেন, সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরই অরূপ, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দু'দিনের মধ্যেই কমিটির তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। তা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরের ঘটনাক্রমের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মী। প্রসূনের অভিযোগ প্রসঙ্গেও সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

তবে শুধু জেলা সভাপতি নন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রসূন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়নি। তা সত্ত্বেও বিধানসভা ভোটের আগে ‘ক্ষোভ’ দেখাতে রাজি নন প্রসূন। বরং দলকে জেতানোর জন্য লক্ষ্মী, রাজীব এবং অরূপকে একসঙ্গে বসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে তিনিও যেতে পারেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রসূন।

বন্ধ করুন