বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > 'রাতে কেঁদে সকালে কন্টেন্ট বানানোর মতো শক্ত এখনও হইনি,' অকপট ‘দ্য বং গাই’
ছবি: কিরণ দত্তের ইনস্টাগ্রাম (Instagram/yourbongguy)
ছবি: কিরণ দত্তের ইনস্টাগ্রাম (Instagram/yourbongguy)

'রাতে কেঁদে সকালে কন্টেন্ট বানানোর মতো শক্ত এখনও হইনি,' অকপট ‘দ্য বং গাই’

  • বেশ কিছুদিন পরে আবার ইউটিউবে দ্য বং গাই। এবার থেকে প্রতিমাসেই নতুন ভিডিয়ো দেবেন, ভিউয়ার্সদের জানিয়েছেন কিরণ দত্ত। তবে এরই মধ্যে চলছে নানা বিতর্ক, মন্তব্যের ঝড়। আপাতত সেসব বাদ দিয়ে আগামীতেই ফোকাস করতে চান কিরণ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এমনটাই জানালেন জনপ্রিয় ইউটিউবার।

YouTube-এ নানা ধরনের বিতর্ক তো চিরসঙ্গী, কাজে প্রভাব পড়ে?

কিরণ: পড়ে না বললে ভুল বলা হবে। যেহেতু কাজটাই মাথার, কন্টেন্ট না ভেবে উল্টোপাল্টা বিষয় নিয়ে ভাবলে কাজে এফেক্ট পড়বেই। 

তাই ধীরে ধীরে কোন বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ, সেটা নিজেই শিখেছি। এখন অতটা বিতর্ক বা লোকের মতামত নিয়ে বিরক্ত হই না। কারও ক্ষতি করিনি বা খারাপ কাজ করিনি এটা নিজে জানি, তাই শান্তির ঘুম আসে।

তবে যে মাঝে বলছিলেন ইউটিউব না করে আটটা-পাঁচটার চাকরি করলেই শান্তি পেতেন? হঠাত্ই ভেবেছিলেন?

কিরণ : না, হঠাৎ নয়। মাঝে মাঝেই মনে হয় যে একটা চাকরি করলে তো আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লোকের এত মাথাব্যথা থাকত না। এই তো, সেদিন ভ্যাকসিন নেওয়ার ছবি দিয়েছি। তাতে একজন বলছে অন্যরা পাচ্ছে না, আর আমি নাকি দিয়ে কটাক্ষ করছি। নিজের পার্সোনাল প্রোফাইলে পোস্ট করছি, তাই নিয়ে বিভিন্ন মানুষের এত রকম জাজমেন্ট মাঝে মাঝে ভালো লাগে না। নিজের পার্সোনাল প্রোফাইলেও কিছু লিখতে পারব না?

তার ওপর কার সঙ্গে সম্পর্ক, কী করছি, এসব নিয়েও মানুষের মন্তব্য দেখে মাঝে মাঝে মনে হত।

এখন অবশ্য হেসে উড়িয়ে দিই। পাবলিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি। সব তো আর আমার ইচ্ছে মতো হবে না। কিছু জিনিস মানিয়ে নিতে হবে।

তার মানে, কমেন্ট পড়েন বোঝা যাচ্ছে। সেটা পড়া উচিত্? মানসিক শান্তি বজায় রাখতে?

কিরণ : যে সমালোচনা থেকে নিজের উন্নতি করতে পারব, সেটা মন দিয়ে পড়ি। আর খারাপ কমেন্টে মন খারাপের তো প্রশ্নই নেই। অঙ্ক পরীক্ষা তো আর দিতে আসিনি, যে লোকে খাতা দেখে নম্বর কাটবে।

কন্টেন্ট বানাই। সবার মতামত নিই। ভালো-খারাপ সব ধরনের কমেন্ট আসাই স্বাভাবিক। আর কে গালিগালাজ খায় না? ইন্টারনেটে কেউ বাদ যায় না।

আমি মানসিকভাবে শক্ত থাকি। তাই মাঝে মাঝে কমেন্ট পড়ি। কোনটা মনে রাখব আর কোনটা ধর্তব্যেই আনব না, সেটা আমার কাছে একদম পরিষ্কার।

ছবি : ইনস্টাগ্রাম 
ছবি : ইনস্টাগ্রাম  (Instagram/yourbongguy)

কখনও কি পেশাগতভাবে মজার ভিডিও তৈরি করাটা বোঝা মনে হয়? বিশেষত এই করোনা পরিস্থিতি, Lockdown-এর মাঝে পজিটিভ ভিডিও করতে কি কঠিন লাগে?

কিরণ: হ্যাঁ, মজার ভিডিও বানাতে সবচেয়ে আগে নিজে খুশি থাকা দরকার। মনে অশান্তি নিয়ে আপনি অন্য কাজ তাও হবে। কিন্তু হাসির কন্টেন্ট লেখা কঠিন। জোর করে করলে সেটা বোঝা যায়।

যখন একদমই হচ্ছে না দেখি তখন ছেড়ে দিই।গত বছর এরকম হয়েছিল। ব্যক্তিগত একটা কারণে ডিস্টার্বড ছিলাম। কিছুতেই কাজে ফোকাস করতে পারছিলাম না।

রাতে লুকিয়ে কাঁদছি আর সকালে কন্টেন্ট বানাচ্ছি, এতটা শক্ত আমি এখনও হয়ে উঠতে পারিনি।

আচ্ছা, ইউটিউবে কপিরাইট স্ট্রাইক নিয়ে বেশ ঝামেলা হচ্ছে। আপনি কপিরাইট স্ট্রাইক খান? কতবার গুনেছেন?

কিরণ : স্ট্রাইক দু-তিনবার খেয়েছি, আবার কথা বলে মিটিয়েও নিয়েছি। তবে, কপিরাইট ক্লেইম প্রচুর পেয়েছি। অন্যের সিনেমা নিয়ে রিভিউ করলে তারা ক্লেইম মেরে পুরো ভিডিওর টাকাটা নিজেরা নিয়ে নেয়।

একটা পুরনো বাংলা প্রোডাকশন হাউসের যত সিনেমা আমি রিভিউ করেছি তার সব টাকাই তারা ক্লেইম করে নিয়ে নিয়েছে। প্রায় ১০টা ভিডিও ধরে নিন, আমি এক টাকাও পাইনি।

ভিডিওগুলো মানুষ দেখে মজা পায়, এটুকুই প্রাপ্তি। তবে YouTube-এর নিয়ম অনুযায়ী রিভিউ করাটা Fair Use-এর মধ্যে পরে, তবে এখানে অনেকেই মিসইউস করেন সেটা।

তবে কি ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বাদে নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থাকা উচিত্ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের?

কিরণ : অনেকে চেষ্টা করছে। TVF-ও 'TVF Play' নামে একটি অ্যাপ বানিয়েছে। তবে যে প্ল্যাটফর্মে অনেক দর্শক আছে সেখানে নজরে আসা বেশি সহজ। আমাদের কাজ কন্টেন্ট বানানো, প্ল্যাটফর্ম বানানো তো নয়। ওদের আমাদের ছাড়া চলবে না, আমাদের ওদের ছাড়া চলবে না। তাই আমার মতে নিজের অ্যাপ বানানো বোকামি হয়ে যাবে।

তবে অনেক বেশি অডিয়েন্স থাকলে চেষ্টা করা যায়। আমার সেরকম কোনও প্ল্যান নেই। কাল YouTube বা Facebook না থাকলে অন্য কোনও প্ল্যাটফর্ম ঠিকই আসবে। প্ল্যাটফর্মের অভাব হবে না কোনদিনই।

ছবি : ইনস্টাগ্রাম
ছবি : ইনস্টাগ্রাম (Instagram)

কনটেন্ট ডাইভার্স করার কী প্ল্যান আছে?

কিরণ : হ্যাঁ, চলতি ২০২১-এই Web Series তৈরির পরিকল্পনা চলছে। তাছাড়া, Music Video-রও প্ল্যান আছে। আর ‘এ কেমন সিনেমা’, 'বং গাইয়ের ঝুলির' মতো নতুন কিছু ইউটিউব সিরিজ শুরু করব।

সময়ের সঙ্গে কন্টেন্টে বদল আনাটা জরুরি। সেকেন্ড চ্যানেল 'Your Bong Guy'-তে Vlogging আর Gaming নিয়ে অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে।

ওয়েব সিরিজের প্ল্যান? তার মানে OTT জাতীয় কিছুতে কাজ করার বা পরিচালনার ইচ্ছা আছে?

কিরণ : হ্যাঁ, লেখা-পরিচালনার ইচ্ছে তো আছে। তবে সেটা অনেক পরে, অনেক কিছু শিখতে হবে। ভালো করে শিখে তবেই। লেখাটা শীঘ্রই হতে পারে। তবে পরিচালনা যদি করিও, তাতে অনেক দেরি আছে।

বাংলাদেশে শর্ট ফিল্মের মত করে 'নাটক' হয়। হিন্দিতেও YouTube-এ সিরিজ হচ্ছে। বাংলায় এখানে সেটা সম্ভব?

কিরণ : হ্যাঁ সম্ভব। হচ্ছেও তো ভালো ভালো ইন্ডিপেনডেন্ট কাজ। আমি লঞ্চ করিনি আপাতত কোনও ওয়েব সিরিজ বা শর্টফিল্ম। কিন্তু ওই যে বললাম, পরিবর্তনটা দরকার। কাজ বাকি। তবে এর বেশি কিছু এখন বলব না।

আগে তো PUBG রিলেটেড কনটেন্ট করতেন। এখন কোনও গেম খেলছেন? স্ট্রিম করবেন?

কিরণ : গেমিং আসলে বাংলায় নতুন। আর নতুন কিছু গ্রহণ করতে সময় লাগে। বাইরে নতুন নতুন কনসেপ্ট আসছে। কিন্তু, বাংলায় এখনও সেই পুরনো জিনিস রিপিট চলছে।

অনেক ভালো ক্রিয়েটর আছেন। নতুন ধরনের কন্টেন্ট বানাচ্ছেন। কিন্তু কেউ দেখছে না।

গেমিংটাও একই ব্যাপার। এখানে অনেকে ভাবেন, এ আবার কি কন্টেন্ট। কিন্তু, বিদেশে গেম খেলেই এক-একজনের ২৫-৩০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার।

তবে হ্যাঁ, স্ট্রিম করার প্ল্যান আছে এ বছরেই। নতুন বাড়িতে যাচ্ছি। এখনও কম্পিউটার আনতে পারিনি কোভিডের জন্য। তাই লাস্ট একমাস গেম খেলা হচ্ছে না। তবে, গেমের নেশা হয়ে গিয়েছিল। একদিকে ভালোই হয়েছে।

নতুন স্টুডিয়োর কাজ কতদূর?

কিরণ : হয়ে গিয়েছে প্রায়। মানে, শ্যুট করার মতো।এবার আর ভিডিও দিতে দেরি হবে না।

বাংলায় স্পনসরদের রেট, ইউটিউবের রেট হিন্দির তুলনায় কম?

কিরণ : বাকিদের জানিনা। তবে আমি হিন্দির তুলনায় খুব কম নিই না। আগে এগুলো এতটা বুঝতাম না। এখন হিন্দির অনেকের সঙ্গে কথা বলে ধারণা হয়েছে। কম টাকায় প্রচুর ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার থেকে, বেশি রেটে কম ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করা ভালো।

সবটাই যে ভিউসের ওপর সব নির্ভরশীল, তা নয়। ইউটিউবারের গ্রহণযোগ্যতা, ব্র্যান্ড ভ্যালু, এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। আর বাংলায় প্রতিযোগিতাও কম, তাই একটু সুবিধা হয়।

তাছাড়া, একটা দায়িত্বের ব্যাপারও আছে। যে জিনিস নিজে ব্যাবহার করব সেটাই প্রোমোট করা উচিৎ।

শেষ প্রশ্ন, বাংলা ইউটিউব কি এখন একটা জায়গায় থমকে গিয়েছে?

কিরণ :  বাংলায় YouTube-এ নতুন অনেক ধরনের কনটেন্ট হওয়া বাকি। আমি চাই আরও নতুন নতুন কন্টেন্ট হোক। তাছাড়া বাংলায় অনেক ভালো ভালো ভিডিয়োও দেখি। সবাই দেখুক, নতুন কনটেন্ট গ্রহণ করুক, এটাই চাই।

বন্ধ করুন