বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > চিকিৎসার বদলে চলল ঝাঁড়ফুক! ফের ‌ দেগঙ্গায় কুসংস্কারের বলি হলেন সাপে কাটা বধূ
চিকিৎসার বদলে চলল ঝাঁড়ফুক! ফের ‌ দেগঙ্গায় কুসংস্কারের বলি হলেন সাপে কাটা বধূ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)
চিকিৎসার বদলে চলল ঝাঁড়ফুক! ফের ‌ দেগঙ্গায় কুসংস্কারের বলি হলেন সাপে কাটা বধূ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)

চিকিৎসার বদলে চলল ঝাঁড়ফুক! ফের ‌ দেগঙ্গায় কুসংস্কারের বলি হলেন সাপে কাটা বধূ

  • হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, রোগীকে ওঝার কাছে না নিয়ে গিয়ে আগে হাসপাতলে আনলে হয়ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হত।

আবারও কুসংস্কারের বলি হলেন এক গৃহবধূ। সাপে কাটা ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বদলে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তারপর ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চলল ঝাড়ফুঁক। ফলে যা হওয়ার তাই হল। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ওই মহিলা। এই ঘটনায় ফের প্রমাণিত হল যে, এখনও শিক্ষার আলো সর্বত্রে পৌঁছয়নি।

বুধবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গার শ্বেতপুরে। ঘটনার রাতে ওই গ্রামের বাসিন্দা মামুদা বিবি নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। আচমকাই কিছু কামড়ানোর ব্যাথা পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় তাঁর। ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁর হাতে সাপে কামড়ে দিয়েছে। তখনই এই ঘটনা তাঁর পরিবারের লোকজনের কাছে জানান তিনি। তবে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর পরিবারের লোকেরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় ওঝা দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই গৃহবধূকে ঝাড়ফুঁক করেন। শুধু তাই নয়, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার আশ্বাসও দেন ওই ওঝা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা কাটতেই না কাটতেই ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তখন তড়িঘড়ি তাঁকে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, রোগীকে ওঝার কাছে না নিয়ে গিয়ে আগে হাসপাতলে আনলে হয়ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হত।

এটা নতুন কোনও ঘটনা নয়, মাসখানেক আগেই দেগঙ্গায় মাত্র দু’‌দিনের ব্যবধানে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছিল দু’‌জনের। প্রথম ঘটনাটি ঘটে দেগঙ্গার কুমরুলি গ্রামে। আরেকটি ঘটনা ঘটে দেগঙ্গার বেঁড়াচাপারে। এই দু’‌টি ক্ষেত্রে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সাপে কাটা এই দুই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বদলে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর দীর্ঘক্ষণ ঝাড়ফুঁক করানোর পরেও কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় দু’‌জনেরই।

বন্ধ করুন