বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > দার্জিলিং কি যোশীমঠের মতো বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে? বিরাট চিন্তা বাংলার শৈলশহরে

দার্জিলিং কি যোশীমঠের মতো বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে? বিরাট চিন্তা বাংলার শৈলশহরে

বিগতদিনে কার্শিয়াংয়ের পাগলাঝোরা এলাকায় এভাবেই ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছিল।ফাইল ছবি (ANI Photo)

অনেকের মতে, বাংলার শৈলশহরে ধস নতুন কিছু নয়। তবে এভাবে দার্জিলিংয়ে নগরায়ন কি সেই ধসের প্রবনতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে?

উত্তরাখণ্ডের যোশীমঠের অন্তত ৫০০টি বাড়িতে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। একের পর এক রাস্তায় গভীর ফাটল। ধসে গিয়েছে বহু এলাকা। বিপন্ন সাধারণ মানুষ। বিপন্ন যোশীমঠ। তবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু বার বারই প্রশ্ন উঠছে কেন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হল যোশীমঠে? অনেকেরই মতে একের পর এক নির্মাণ আর আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে দেবভূমিতে। ক্রমেই বসে যাচ্ছে যোশীমঠের বিস্তীর্ণ এলাকা। আর এই বিপর্যয় এবার কপালে ভাঁজ ফেলেছে দার্জিলিংয়েও।

অনেকের মতে দার্জিলিংয়েও একের পর এক নির্মাণ বেড়েই চলেছে। পাহাড়ের কোলে তৈরি হচ্ছে অবৈধ নির্মাণ। পুরসভা সম্প্রতি তার তালিকাও তৈরি করেছে। কিন্তু সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙা যায়নি এখনও। এদিকে এই অবৈধ নির্মাণের জেরে চাপ পড়ছে পাহাড়ের বুকে। তবে কি দার্জিলিং এগিয়ে যাচ্ছে যোশীমঠের সেই বিপর্যয়ের দিকেই? প্রশ্নটা ভাবাচ্ছে অনেককেই।

সম্প্রতি দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে একের পর এক ধসের ঘটনা হয়েছে। বিজনবাড়ি, তাকদা সহ বিভিন্ন এলাকায ধস নামার নজির রয়েছে। কিন্তু তারপরেও অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক নির্মাণ হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে। এর সঙ্গে সিকিমও ধসপ্রবন। কিন্তু কবে হুঁশ ফিরবে সরকারের। বর্ষাকাল এলে সেই ধসের প্রবনতাও বাড়তে থাকে। ধসের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে যায় রাস্তা। ভেঙে যায় বাড়়ি। প্রাণহানিও হয়। কিন্তু তারপরেও যাবতীয় নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি তৈরি হচ্ছে দার্জিলিংয়ে। একটা সময় পাহাড়ে সাধারণত কাঠের বাড়ি বেশি দেখা যেত। ভূমিকম্পপ্রবন দার্জিলিংয়ে এটাই ছিল রীতি। তবে বর্তমানে সেই পাহাড়ে তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের বিশাল ইমারত।

অনেকের মতে এর জেরে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। যে কোনও দিন বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বাঙালির চিরচেনা দার্জিলিং। এখনই এনিয়ে সতর্ক না হলে আগামী দিনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে দার্জিলিংয়ের জন্য়। এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

অনেকের মতে, বাংলার শৈলশহরে ধস নতুন কিছু নয়। তবে এভাবে দার্জিলিংয়ে নগরায়ন কি সেই ধসের প্রবনতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে? পাহাড়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এর আগে সরব হয়েছিল হামরো পার্টি। অজয় এডওয়ার্ডের নেতৃত্বে হামরো পার্টি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবটা সম্পূর্ণ হয়নি। এবার অনীত থাপা সেই কাজকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যান সেটাই দেখার।

 

বন্ধ করুন