বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > চাকরি মেলেনি, অবসাদে আত্মঘাতী B-TECH ইঞ্জিনিয়ার
 (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

চাকরি মেলেনি, অবসাদে আত্মঘাতী B-TECH ইঞ্জিনিয়ার

  • মৃত যুবকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘‌ আমার ছেলের দু’‌বছর আগে রেলের পরীক্ষায় পাশ করেছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই চাকরি পায়নি ও। চাকরি না পাওয়ার যন্ত্রণা সব সময় কুরে কুরে খেত তাঁকে। সবসময় ছেলে আমাকে বলত, ‘‌ মা আমার বয়স হয়ে যাচ্ছে, আর চাকরি পেলাম না।

বিটেক সম্পূর্ণ করা সত্ত্বেও চাকরি পাচ্ছিলেন না-‌যুবক। মানসিক অবসাদ ঘিরে ধরেছিল তাঁকে। চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কলকাতায় আসার কথাও ছিল ওই যুবকের। ‌কিন্তু তার আগেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন বিটেক ইঞ্জিনিয়ার। নিজের ঘরের মধ্যেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। শুক্রবার রাতে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের কুকুরযান গ্রাম পঞ্চায়েতের মালি এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই যুবকের নাম শাহিনুর ইসলাম (২৫)। শনিবার সকালে ট্রেনে করে কলকাতায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যাওয়ার কথা ছিল শাহিনুরের। তাঁর আগেই এই অঘটন ঘটে যায়। ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ওই যুবককে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ওই যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গ্রামে।

ঘটনা প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সমীর পাল বলেন, ‘‌ কুকুরযান এলাকায় এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য পরিবারের তরফ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।’‌

মৃত যুবকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘‌ আমার ছেলের দু’‌বছর আগে রেলের পরীক্ষায় পাশ করেছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই চাকরি পায়নি ও। চাকরি না পাওয়ার যন্ত্রণা সব সময় কুরে কুরে খেত তাঁকে। সবসময় ছেলে আমাকে বলত, ‘‌ মা আমার বয়স হয়ে যাচ্ছে, আর চাকরি পেলাম না।’‌ চাকরি না-পেয়ে, অবশেষে ‌এই পথ বেছে নিল আমার ছেলে।’‌

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যেহেতু পরের দিন চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল শাহিনুরের। সেজন্য রাতে খাওয়া-দাওয়া করে তাড়াতাড়ি নিজের ঘরে ঘুমোতে চলে যায় সে। শনিবার সকালে তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ওই যুবককে ডাকাডাকি শুরু করেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। কিন্তু যুবকের কোনও সাড়াশব্দ না-‌পেয়ে, দরজা ভেঙে ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। ঘরের ভিতরে ঢুকে তাঁরা ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

বন্ধ করুন