বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > লাগাতার ব্ল্যাকমেলের হাত থেকে বাঁচতেই খুন, দাবি হলদিয়া-কাণ্ডে ধৃতের
নিহত রিয়া দে। ফেসবুক থেকে
নিহত রিয়া দে। ফেসবুক থেকে

লাগাতার ব্ল্যাকমেলের হাত থেকে বাঁচতেই খুন, দাবি হলদিয়া-কাণ্ডে ধৃতের

  • বিবাহবিচ্ছিন্না রমা মেয়েকে নিয়ে গত আড়াই বছর ধরে সেখানে ভাড়া থাকতেন। তবে প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তাদের।

লাগাতার ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েই নব বারাকপুরের মা-মেয়েকে খুন করতে বাধ্য হয়েছে সে। জেরার মুখে এমনটাই জানাল হলদিয়ায় জোড়া খুনে মূল অভিযুক্ত শেখ সাদ্দাম। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল রিয়া ও তাঁর মা রমা। সাদ্দামের দাবির সত্যতা যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের দাবি, জেরায় হাসান দাবি করেছে, ফেসবুকে আয়েশা দে নামে প্রোফাইল রয়েছে রিয়ার। সেখানেই তাঁর সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। সেই সুযোগে তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি চলে যায় রিয়ার কাছে। এর পর সেই ছবি পরিবারের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা চাইতে থাকে রিয়া ও তার মা রমা।

নব বারাকপুরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মা ও মেয়ে। শনিবার সেখানে যান গোয়েন্দারা। জানতে পারেন বাড়িটির মালিক সন্ধ্যা দাশগুপ্ত নামে এক মহিলা। তিনি ছবি দেখে মা ও মেয়েকে সনাক্ত করেন। তিনি জানিয়েছেন, বিবাহবিচ্ছিন্না রমা মেয়েকে নিয়ে গত আড়াই বছর ধরে সেখানে ভাড়া থাকতেন। তবে প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তাদের। এমনকী রমার পেশা সম্পর্কেও কিছু বলতে পারেননি কেউ। তবে রিয়ার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সে নব বারাকপুরের একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনো করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হলদিয়ার দুর্গাচকে হলদি নদীর চরে ২টি জ্বলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায় দেহদুটি মহিলার। তদন্তে উঠে আসে, নিহতদের নাম রমা দে (৪০) ও রিয়া দে (১৯)। এর পরই সাদ্দাম ও তার বন্ধু মনজুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হলদিয়া ডেকে এনে পরিকল্পনা করে তাদের খুন করেছে অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।



বন্ধ করুন