বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > তালা ঝুলে গেল হুগলির চটকলে, কর্মহীন শতাধিক, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
তালা ঝুলে গেল হুগলির চটকলে, কর্মহীন শতাধিক, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে : ছবিটি প্রতীকী (‌সৌজন্য ফেসবুক)‌

তালা ঝুলে গেল হুগলির চটকলে, কর্মহীন শতাধিক, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

হুগলির শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুটমিলের টেক্সটাইল শাখায় ‘‌সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের’‌ নোটিস ঝুলতে দেখা যায়। ফলে, একধাক্কায় কর্মহীন হয়ে পড়েন জুটমিলের ৫০০’‌রও বেশি শ্রমিক।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। হু হু করে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা। একইসঙ্গে মৃত্যুমিছিল বার হচ্ছে দেশজুড়ে। কোথাও আংশিক তো কোথাও আবার পূর্ণ লকডাউন জারি করেছে একাধিক রাজ্য। এই অবস্থায় কাজ হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন বহু মানুষ। এবার সেই পরিস্থিতি আছড়ে পড়ল এরাজ্যেও। ‌ভোট মিটতেই না মিটতেই তালা ঝুলে গেল শ্রীরামপুরের চটকলে। কর্মহীন হয়ে পড়লেন শতাধিক কর্মী।

শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুটমিলের টেক্সটাইল শাখায় ‘‌সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের’‌ নোটিস ঝুলতে দেখা যায়। ফলে, একধাক্কায় কর্মহীন হয়ে পড়েন জুটমিলের ৫০০’‌রও বেশি শ্রমিক। যা নিয়ে এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তাঁরা। প্রতিবাদে এর পর রাস্তা অবরোধ শুরু করেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।

শ্রমিকদের দাবি, এদিন কাজে যোগ দিতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, মিলের শাখায় ওই নোটিস ঝোলানো রয়েছে। এর পরেই তাঁরা মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুরু করে দেন পথ অবরোধও। ওদিকে, চটকল কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনা আবহে তাদের উৎপাদিত সামগ্রীর চাহিদা কমে গিয়েছে। সেজন্য ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে ১৫ দিনের জন্য মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, মিল বন্ধের ঘটনায় শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এপ্রসঙ্গে হুগলির আইএনটিটিইউসি-র কার্যনির্বাহী সভাপতি সন্তোষকুমার সিংহ বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূলকে বদনাম করতে ভোটের পর মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে তার দায় এসে পড়ে শাসকদলের ওপর।’‌

এর পাল্টা বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌তৃণমূলের সঙ্গে মিল কর্তৃপক্ষের সাঁটগাঁঠের জেরেই মিল বন্ধের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌

রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও, এই মহামারির মধ্যে আখেরে বিপাকে পড়লেন কয়েকশ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। এদিন পুলিশের মধ্যস্থতায় প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকেরা।

অন্য দিকে, মঙ্গলবারও একই ঘটনা ঘটেছিল পশ্চিম বর্ধমানে। করোনা পরিস্থির মধ্যে জেনারেল ইলেকট্রিকাল ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামে ওই সংস্থা কারখানার গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে ২০০ অস্থায়ী কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েন। কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করেন কর্মীরা।

কর্মীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের তরফে ফোন করে তাঁদের জানানো হয়, ওইদিন থেকে আর তাঁদের কাজে আসার দরকার নেই। তাঁদের আরও অভিযোগ, এই ২০০ জনের বদলে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।ওই সংস্থার এক কর্মী বলেন, ‘‌এই করোনার মধ্যে যদি তাঁদের কাজ চলে যায়, তাহলে তো পরিবার সমেত আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।’‌ শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, ভোটের আগে সবাই তাঁদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিল। আর ভোট মিটতেই তাঁদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হল।

বন্ধ করুন