সুন্দরবনে বাঘ দেখার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।
সুন্দরবনে বাঘ দেখার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।

লকডাউনে প্রাপ্তিযোগ, পর্যটকহীন সুন্দরবনে হামেশাই মিলছে বাঘের দেখা

  • সাধারণ সময়ে ২ লাখের বেশি পর্যটক, মৎস্যজীবী, মৌলি ও কাঁকড়ামাররা সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিয়মিত প্রবেশ করেন। করোনা সংক্রমণের জেরে গত ১৭ মার্চ থেকে রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে।

দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে বন্ধ হয়েছে পর্যটক সমাগম। এই কারণে সুন্দরবনে বাঘ দেখার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। ম্যানগ্রোভ বনের ফাঁক-ফোকরে, নদী ও খাঁড়ির তীরে প্রায়ই দেখা মিলছে ডোরাকাটাদের।

সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের অধিকর্তা সুধীর দাস জানিয়েছেন, ‘লকডাউনের আগে পর্যটকদের আনাগোনার ফলে সপ্তাহে বড়জোর দুই বার বাঘ দেখা যেত। কিন্তু যবে থেকে লকডাউন জারি হয়েছে, বনকর্মীদের টহলদারি দল সপ্তাহের ৫-৬ দিন বাঘ দেখতে পাচ্ছে। এমনকি, কয়েক দিন একাধিক বার বাঘের দেখা পাওয়া যাচ্ছে।’

ভারতীয় সুন্দরবনের ৪,২০০ বর্গ কিমি এলাকায় প্রায় ৯০টি বাঘ থাকলেও দুর্ভেদ্য জঙ্গলের কারণে সেখানে বাঘের দর্শন পাওয়া বরাবরই ভাগ্যের বিষয়। একমাত্র সাঁতরে খাঁড়ি পেরোনোর সময়ই বেশিরভাগ সময় তাদের দেখতে পাওয়া যায়।

রাজ্যের মুখ্য বনপাল রবি কান্ত সিনহা বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘ দেখতে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। এই কারণেই নদী-নালা পূর্ণ এই ব-দ্বীপে বাঘ দর্শন এত মনোরমও। কিন্তু এই সময় পর্যটক সমাগম নেই বলে অনেক বেশি সংখ্যক বাঘ জঙ্গলের ভিতর থেকে বেরিয়ে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে খাঁড়ি পেরিয়ে পৌছচ্ছে।’

সাধারণ সময়ে ২ লাখের বেশি পর্যটক, মৎস্যজীবী, মৌলি ও কাঁকড়ামাররা সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিয়মিত প্রবেশ করেন। করোনা সংক্রমণের জেরে গত ১৭ মার্চ থেকে রাজ্যের সমস্ত অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে।

জঙ্গলে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছেন শুধুমাত্র বনকর্মীরা। সম্প্রতি তাঁদের নজরেই পড়েছে বাঘ দর্শনের এই রমরমা।

বন্ধ করুন