বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > পড়াশোনায় বৃত্তি থেকে চাকরির সুযোগ তৈরি, কিশোরদের সহায়তায় কর্মসূচি ম্যাজিক বাসের
পড়াশোনায় বৃত্তি থেকে চাকরির সুযোগ তৈরি, কিশোরদের সহায়তায় কর্মসূচি ম্যাজিক বাসের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
পড়াশোনায় বৃত্তি থেকে চাকরির সুযোগ তৈরি, কিশোরদের সহায়তায় কর্মসূচি ম্যাজিক বাসের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

পড়াশোনায় বৃত্তি থেকে চাকরির সুযোগ তৈরি, কিশোরদের সহায়তায় কর্মসূচি ম্যাজিক বাসের

  • আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের কিশোর-কিশোরীদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করা হচ্ছে।

দু'চোখে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু আর্থিক অনটনে তা পূরণ হবে কিনা, জানেন না বছর ১৭-এর নারুক্কাসানা মোল্লা। একই অবস্থা তাঁর সমবয়সি রাবেয়া মোল্লার। গ্রামের প্রথম চিকিৎসক হয়ে উঠতে চান তিনি। কিন্তু অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাব। 

শুধু দু'জন নয়, রাজ্যের অসংখ্য প্রান্তিক পরিবারেই সেই এক ছবি ধরা পড়ে। পড়াশোনার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভবপর হয় না। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই কম বয়সেই বিয়ে দেওয়া হয়। সেই প্রবণতা রুখতে এবং কিশোর-কিশোরীদের আত্মনির্ভর করে তুলতে এগিয়ে এসেছে ‘ম্যাজিক বাস ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’।

তাদের 'চাইল্ডহুড টু লিভলিহুড' কর্মসূচির আওতায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের কিশোর-কিশোরীদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর গড়ে তুলতে সংগঠিত ক্ষেত্রে তাঁদের চাকরির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। সেজন্য ১২ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চলছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে,  কর্মসূচির পর তাঁদের সংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। গড়ে মাসিক বেতন ১০,৮৪৯ টাকা। হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা এবং কলকাতায় ১২,৮৮৪ কিশোর-কিশোরীর কাছে ইতিমধ্যে ‘ম্যাজিক বাস ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ পৌঁছে গিয়েছে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

পড়াশোনা জন্য বৃত্তি পেয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের রাবেয়া। তাঁর বাবা জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে দৈনিক ২৫০ টাকা উপার্জন করেন। মায়ের সঙ্গে টুকটাক কাজ করে কিছু টাকা পেতেন রেবেয়া। কিন্তু একাধিক সদস্যের পেট চালানোর পর পড়াশোনার খরচ চালানোর সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। পরে ‘ম্যাজিক বাস ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’-এর বৃত্তি পেয়ে মাধ্যমিকে ৮৬ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করেছেন রেবেয়া। 

বিষয়টি নিয়ে সংস্থার (পূর্ব) আঞ্চলিক অধিকর্তা সন্ধ্যা শ্রীনিবাসন বলেন, 'আমাদের বিশ্বাস যে প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের অবশ্যই গলার আওয়াজ তুলে ধরতে হবে। যদি বঞ্চিত হন, তাহলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার জন্য তাঁদের লড়াই করতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে যে আগেভাগেই যাতে তাঁদের বিয়ে দেওয়া না হয়। পরিবর্তে তাঁরা কেরিয়ারের পরিকল্পনা করবেন। যা তাঁদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করবে। আমি খুশি যে এরকম সাহায্যের ফলে তাঁরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেন।'

বন্ধ করুন