প্রতীকি ছবি
প্রতীকি ছবি

ফাঁদ পেতে ভণ্ড জ্যোতিষিকে ধরে গণধোলাই চলল বর্ধমানে

  • উলটে গায়েব হয়ে যায় তান্ত্রিক নবীন সান্যাল। বন্ধ হয়ে যায় তাঁর ফোন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে তান্ত্রিককে ধরতে এর পর ফাঁদ পাতেন তরুণবাবু।

তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করতে না পারায় এক তান্ত্রিককে বেজায় পেটাল জনতা। ঘটনা বর্ধমানের রসিকপুরের। প্রতিরাতির অভিযোগ, বশীকরণের মাধ্যমে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে ২২,০০০ টাকা হাতিয়েছে নবীন সান্যাল নামে ওই তান্ত্রিক। কিন্তু মেয়ে বাড়ি ফেরেনি। এর পরই শনিবার তাঁকে ফাঁদ পেতে ধরেন প্রতারিতরা। কয়েক ঘা দিয়ে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।

প্রতারিত তরুণ মণ্ডল জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে প্রেমিকের সঙ্গে পালায় তাঁর মেয়ে। অনেক বুঝিয়েও তাঁকে ফেরাতে পারেননি। মেয়ের বয়স ১৮ পার করায় পুলিশ তেমন সাহায্য করতে পারবে না বুঝে সেই রাস্তাও মাড়াননি। বদলে তিনি হাজির হন ‘স্বর্ণপদক প্রাপ্ত’ জ্যোতিষি – তান্ত্রিক নবীন সান্যালের কাছে। তিনি জানান, মেয়েকে ফেরাতে বশীকরণ যজ্ঞ করতে হবে। সেজন্য আগে থেকেই ২০,০০০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। দরদাম করে ১৮,০০০-এ রফা হয়। এছাড়া পুজোর উপকরণ কিনতে আরও ৪,০০০ টাকা নেন ওই তান্ত্রিক।

তরুণবাবুর অভিযোগ, ধুমধাম করে যজ্ঞ করার পর মেয়ের ফেরত আসার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সময় কাটলেও তার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। উলটে গায়েব হয়ে যায় তান্ত্রিক নবীন সান্যাল। বন্ধ হয়ে যায় তাঁর ফোন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে তান্ত্রিককে ধরতে এর পর ফাঁদ পাতেন তরুণবাবু।

শনিবার অজানা নম্বর থেকে আত্মীয়কে দিয়ে ফোন করিয়ে নবীন সান্যালকে ডেকে পাঠান তিনি। নবীন সান্যাল সেখানে পৌঁছতেই ঘিরে ধরেন স্থানীয়রা। টাকা ফেরতের দাবিতে মারধর শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। জ্যোতিষিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় তারা।


বন্ধ করুন