বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > 'ছত্রধরের মুক্তির জন্য রাজধানী আটকানো', ভোটের আগে ১১ বছরের মামলার তদন্তে NIA
ঝাড়গ্রামের বাঁশতলা স্টেশনে আটকে পড়া সেই রাজধানী এক্সপ্রেস (ফাইল ছবি, সৌজন্য টুইটার)
ঝাড়গ্রামের বাঁশতলা স্টেশনে আটকে পড়া সেই রাজধানী এক্সপ্রেস (ফাইল ছবি, সৌজন্য টুইটার)

'ছত্রধরের মুক্তির জন্য রাজধানী আটকানো', ভোটের আগে ১১ বছরের মামলার তদন্তে NIA

  • এক দশকেরও বেশি সময় পুরনো সেই মামলার তদন্তের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং রাজ্য পুলিশের অনুমতির কোনও প্রয়োজন নেই।

নীরজ চৌহান

এগারো বছর আগের মামলা। হঠাৎ করে বিধানসভা ভোটের আগের বছরে তা প্রবলভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল। সৌজন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি সিদ্ধান্ত। নাম গোপন রাখার শর্তে আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে ঝাড়গ্রামে ভুবনেশ্বর-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসে আটকানোর মামলাটি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সেই বছরের ২৭ অক্টোবর বাঁশতলা স্টেশনে ছত্রধর মাহাতোর মুক্তির দাবিতে রাজধানী এক্সপ্রেস আটকে দিয়েছিল জনগণের কমিটি ৫০০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে। ট্রেনের দুই চালককে অপহরণ করার অভিযোগ ওঠে কমিটির বিরুদ্ধে। যদিও কমিটির তরফে দাবি করা হয়েছিল, তাঁদের অপহরণ করা হয়নি। তাঁরা সুরক্ষিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন আটকে রাখার পর ঘটনাস্থলে সিআরপিএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কমান্ডাররা পৌঁছালে সেখান থেকে পালিয়ে যায় জনগণের কমিটির সদস্যরা। 

ওই আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত এপ্রিলেই তিনটি কারণ দর্শিয়ে এনআইয়ের হাতে তদন্তভার তুলে দিয়েছিল অমিত শাহের মন্ত্রক। প্রথমত, তাতে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন জড়িত ছিল (এমনিতেই জনগণ কমিটির সঙ্গে মাওবাদীদের যোগ ছিল বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে)। দ্বিতীয়ত, ট্রেন আটকানোর পরদিন অর্থাৎ ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যে অভিযোগ দায়ের করেছিল, তাতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১ এবং ১২১ এ (ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক সংক্রান্ত ধারা)। তৃতীয়ত, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) ১৫সি ধারায় তদন্তের যোগ্য সেই মামলা, কারণ তা ব্যক্তিকে অপহরণের সঙ্গে যুক্ত। যা ভারতের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ।

এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রেলওয়ে আইনের পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১, ১২১এ, ৫০৬, ৩৪১ এবং ১৪১ ধারায় মামলা রুজু করে পুরোদমে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক এফআইআরে না থাকলেও এখন বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারা যোগ করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এক অফিসার বলেন, ‘গত সাত-আট বছর ধরে খুন, বোমা বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা, তাদের অর্থের জোগান এবং মাদক কারবার-সহ মাওবাদী সংক্রান্ত সবরকমের মামলার বিস্তারিত তদন্ত করেছে এনআইএ। মাওবাদীর প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্যও আছে। ২০০৯ সালের (রাজধানী এক্সপ্রেসের) হাইজ্যাকের ঘটনার পিছনে যে রহস্য এবং বড় ষড়যন্ত্র আছে, তার সমাধানে সেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে সেখানেই এনআইএয়ের হাতে তদন্তভার যাওয়ার গুরুত্ব শেষ হয় না, এক দশকেরও বেশি সময় পুরনো সেই মামলার তদন্তের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং রাজ্য পুলিশের অনুমতির কোনও প্রয়োজন নেই। সেখানেই দশক পুরনো মামলায় আবারও তদন্ত শুরু হওয়ায় নয়া সমীকরণ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। 

তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে সরকারিভাবে যোগ না দিলেও ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছত্রধর নিয়মিত যান। তা এলাকার কারোর অজানা নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তো তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ছত্রধর দলে যোগ দিলে তিনি খুশি হবেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, মাওবাদীদের দলে নিচ্ছেন মমতা।

এএনআইএ তদন্ত নিয়ে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শীর্ষ মাওবাদী নেতা কিষাণজির ডান হাত ছিলেন মাহাতো। পুরো আদিবাসী ভোট বিজেপির দিকে যাওয়ায় তাঁকে (ছত্রধর) নিয়ে এসেছে তৃণমূল। তাই তাঁকে ব্যবহার করে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক আবার ফিরে পেতে চাইছেন মমতা। কিন্তু ওরা (তৃণমূল) জিততে পারবে না।’ তবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হয়নি ছত্রধর মাহাতোকেও।

বন্ধ করুন