বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > তৃণমূলের চাবিকাঠি ভাইপোর হাতে, গরু পাচারের টাকা সেখানেই যায়, কটাক্ষ বিজয়বর্গীয়র
রামনগরে বিজেপি–র যোগদান মেলা কর্মসূচির অনুষ্ঠানে কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ছবি সৌজন্য : টুইটার
রামনগরে বিজেপি–র যোগদান মেলা কর্মসূচির অনুষ্ঠানে কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ছবি সৌজন্য : টুইটার

তৃণমূলের চাবিকাঠি ভাইপোর হাতে, গরু পাচারের টাকা সেখানেই যায়, কটাক্ষ বিজয়বর্গীয়র

  • কৈলাস বিজয়বর্গীয় বললেন, ‘‌তৃণমূল আর মমতার দল নয়। আজ তৃণমূল শুভেন্দু অধিকারীরও নয়। তিনিও বিদায় জানাচ্ছেন এই দলকে। কোনও ব্যক্তি যাঁর আত্মসম্মান রয়েছে তাঁরা এই দলে আর থাকতে পারে না।’‌

১৯ নভেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে মেগা শো–তে রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‌আমি রাজ্যের মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীও আমায় মন্ত্রিসভা থেকে তাড়িয়ে দেননি। আমিও ছাড়িনি।’‌ আর সেই রামনগরেই বিজেপি–র যোগদান মেলা কর্মসূচির অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বললেন, ‘‌তৃণমূল আর মমতার দল নয়। আজ তৃণমূল শুভেন্দু অধিকারীরও নয়। তিনিও বিদায় জানাচ্ছেন এই দলকে। কোনও ব্যক্তি যাঁর আত্মসম্মান রয়েছে তাঁরা এই দলে আর থাকতে পারে না।’‌

এদিন শাসক দলকে নিশানা করতে গিয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি–র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি বলেন, ‘‌তৃণমূলের চাবিকাঠি এখন ভাইপোর হাতে। সেই ভাইপো আজ কী করছে?‌’‌‌ বিজয়বর্গীয়র অভিযোগ, ‘‌গরু পাচার, কয়লা চুরি, বাংলাদেশে চোরাচালানের টাকা— এই কোটি কোটি টাকা এখন সরাসরি ভাইপোর হাতে যায়।’‌ তাঁর কটাক্ষ, ‘‌৪ মাস সময় আছে। যত পারবেন টাকা লুঠে নিন। কিন্তু ওই টাকার করবেন কী?‌ সিবিআই যখন ধরবে তখন জেলে ওই টাকা কোনও কাজে লাগবে না।’‌

তৃণমূল সরকারকে এদিন ‘‌চাল চোর’‌ সরকার বলে কটাক্ষ করেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি বলেন, ‘‌এই চাল চোর সরকার আমফান ক্ষতিপূরণের টাকাও আত্মসাৎ করছে। গরিবের টাকা লুঠ করছে এই সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মবিশ্বাস বলে আর কিছু নেই। পুরো তৃণমূল দলকে তিনি প্রশান্ত কিশোরের কাছে দিয়ে দিয়েছেন।’‌

পাশাপাশি এদিন সভামঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ চালুর কথা উস্কে দেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তিনি বলেন, ‌‘‌‌আমাদের দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ লাগু করেছেন। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত যে সব হিন্দুরা এই দেশে শরনার্থী হয়ে রয়েছেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেবে এই আইন। আর সেই কাজ করবে বিজেপি সরকার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধায় আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই বহিরাগত বলছেন।’‌

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কৈলাস প্রশ্ন করেন, ‘‌তা হলে আপনার আপন লোকজন হচ্ছে ওই সব রোহিঙ্গা মুসলমানরা যারা সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে, জাল নোট, মাদকের কারবার করছে?‌ আর নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ আপনার কাছে বহিরাগত?‌

রামনগরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এদিন ভোটের বাদ্যি বাজিয়েছেন বিজয়বর্গীয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‌এই বাংলা কংগ্রেসের সরকার দেখেছে। বাম আমলেও অনেক হত্যাকাণ্ড, অনেক অনাচার হয়েছে। ‘‌সোনার বাংলা’‌ গড়ে তুলবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— এই ভেবে আপনারা তৃণমূলের সরকার পরপর দু’‌বার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, হেনস্থা হতে হচ্ছে মহিলাদের।’‌ কৈলাস বিজয়বর্গীয় প্রশ্ন করেন, ‘‌রাজ্যের এই অবস্থায় যদি এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে তাঁর কি সেই পদে থাকার অধিকার রয়েছে?‌’‌ এদিন জনসাধারণের কাছে গেরুয়া শিবিরকে একবার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান কেন্দ্রীয় এই বিজেপি নেতা।

বন্ধ করুন