বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই, নাতি রীতেশকে কী জবাব দেবেন দাদু কামেশ্বর!‌
দুর্ঘটনার পরদিন সকালে অবস্থা। (ছবি সৌজন্য টুইটার)
দুর্ঘটনার পরদিন সকালে অবস্থা। (ছবি সৌজন্য টুইটার)

পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই, নাতি রীতেশকে কী জবাব দেবেন দাদু কামেশ্বর!‌

  • ওই ছোট্ট ছেলেটাকে কী জবাব দেবেন কামেশ্বর বুঝতে পারছেন না। লড়াইটা মুহূর্তে কঠিন হয়ে গেল।

একসঙ্গে পরিবারের ছ'জন মারা গিয়েছেন। আশঙ্কাজনক আরও দু’জন। শোকে পাথর হয়ে রাত জেগে হাসপাতালে পড়ে রয়েছেন কামেশ্বর সিং। যিনি বললেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে আমি ওদলাবাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এলাম। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। আমার বড় মেয়ে, জামাই, দুই নাতনি, ভাইয়ের বউ ও ভাইয়ের শাশুড়ি মারা গিয়েছেন। আর আট বছরের নাতি রীতেশ এখনও জানে না যে ওর বাবা–মা ও দিদিরা কেউ আর বেঁচে নেই।’ ওই ছোট্ট ছেলেটাকে কী জবাব দেবেন, কামেশ্বর বুঝতে পারছেন না। লড়াইটা মুহূর্তে কঠিন হয়ে গেল। আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে চাইছেন কামেশ্বর। আর দু’‌চোখ বেয়ে নেমে আসছে অশ্রুধারা।

জানা গিয়েছে, ক্রান্তির বারোঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বিপন সরকারের স্ত্রী মামনি সরকার ও তিন বছরের ছেলে বিরাজের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্ঘটনায়। মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বিপন। তিনি বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে আমি বাড়ি ফিরে যাই। শুক্রবার আমাদের বিয়ের চার বছর পূর্ণ হবে। বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। কোন অপরাধের শাস্তি দেওয়া হল তা বুঝতে পারছি না।’ হাল ছেড়ে দেওয়া অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিপন। যেন হারিয়ে ফেলেছেন পথ। কাউকে দিশা দেখাতে বলছেন। কিন্তু চারিদিকে নেমেছে অন্ধকার।

স্বজন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। ময়নাগুড়ির চর চূড়াভান্ডারের রানিরহাট মোড় শোকস্তব্ধ। শুধু কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। এলাকার মোড়ে মোড়ে একই আলোচনা। সবার মুখ কেমন যেন থমথমে হয়ে গিয়েছে। কারও কারও ভাষা হারিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বৌভাতের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে বাড়ির আত্মীয় স্বজনদের ভিড় উপচে পড়েছে। হাসপাতালের বিছানা ছেড়ে অজয় সিং শেষবারের মতো তাঁর পরিবারের মৃতদেহগুলি দেখতে মর্গে চলে এসেছেন। তাঁকে বুঝিয়ে ফের হাসপাতালে পাঠালেন পরিবারের লোকেরা। এরপর কী?‌ বুঝতে পারছেন না অজয় সিং। শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন দেওয়ালের দিকে।

ময়নাগুড়ির রানিরহাটের শোকস্তব্ধ বাড়িতে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস–গৌতম দেব। অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘সমবেদনা জানানোর কোনও ভাষা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে এসেছি। মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে আছি আমরা।’ গৌতম দেব মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দেন। বিজেপির বুথ সভাপতির বাড়িতে গিয়েও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

বন্ধ করুন