বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > কোটিপতি হয়ে রাতারাতি সেলেব মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরের দুই গ্রামের দুই যুবক
বিকাশ বাগদী ও শেখ সাব্বির হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
বিকাশ বাগদী ও শেখ সাব্বির হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

কোটিপতি হয়ে রাতারাতি সেলেব মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরের দুই গ্রামের দুই যুবক

  • দু’‌জনের মধ্যে পেশাগত বা অন্য কোনও মিল নেই। তবে তাঁদের মিল রয়েছে ললাট–লিখনে। রাতারাতি ভাগ্যের শিকে ‌ছিঁড়েছে তাঁদের। হয়েছেন কোটিপতি।

বিকাশ বাগদী ও শেখ সাব্বির হোসেন। প্রথমজনের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার কুমরাই গ্ৰামে। আর দ্বিতীয়জন থাকেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাঁধিয়া গ্রামে। দু’‌জনের মধ্যে পেশাগত বা অন্য কোনও মিল নেই। তবে তাঁদের মিল রয়েছে ললাট–লিখনে। রাতারাতি ভাগ্যের শিকে ‌ছিঁড়েছে তাঁদের। হয়েছেন কোটিপতি।

টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিকাশ। ২১ বছর বয়স তাঁর। কিন্তু গোটা সংসারের ভার তাঁরই মাথার ওপরে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষক পরিবারের সন্তান বিকাশ। কিন্তু সংসারের হাল ধরতে গিয়ে স্বপ্ন হারিয়ে গিয়েছে। মাস খানেক আগে ধার করে একটি টোটো কেনেন বিকাশ। সেটি চালিয়েই সংসার টানছেন। মাঝেমধ্যে লটারির টিকিট কাটার অভ্যাস ছিল তাঁর। তেমনই রবিবার রাতে কান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিকাশ ৩০ টাকা দিয়ে এক ঘর টিকিট কাটেন। তার মধ্যে একটি টিকিটেই বেঁধেছে প্রথম পুরস্কার। পরদিন সোমবার সকালে তিনি জানতে পারেন, এক কোটি টাকা জিতেছেন তিনি।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিকাশের গ্রামে ভিড় করছেন পরশি গ্রামের মানুষও। এত টাকা দিয়ে কী করবেন তিনি?‌ বিকাশ বলছিলেন, ‘‌বাবা অসুস্থ। আগে তাঁর চিকিৎসা করাব। ঘর–সংসারের অবস্থা বেহাল। বাবা একটু সু্স্থ হয়ে উঠলেই গুছিয়ে তুলব সংসারটাকে।’‌ তাঁর কথায়, ‘দিনভর টুকটুক চালিয়ে সন্ধেয় বাড়ি ফেরার পথে ৩০ টাকা দিয়ে প্রতিদিনই একঘর টিকিট কাটতাম। ভাবতাম যদি কিছু হয়। যদি ভাগ্য ফেরে। অবশেষে তা–ই হল। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।’‌

কথায় আছে, স্বাস্থ্যই সম্পদ। স্বাস্থ্য ফেরাতে কাঁথি শহরে গিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁধিয়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ সাব্বির হোসেন। আর ফিরলেন সম্পদ নিয়ে। মাস দেড়েক আগের কথা। অসুস্থ শরীর নিয়ে কাঁথিতে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন সাব্বির। সেখানেই একটি দোকানে তিনি ৪ হাজার টাকার লটারির টিকিট কেটেছিলেন। সম্প্রতি ঘোষিত হয় লটারির ফল। আর তাতে তিনি একেবারে লটারির ভাষায় ‘‌জ্যাকপট’‌ পেয়েছেন। প্রথম পুরস্কার। এক, দুই কোটি নয়। জিতেছেন পাঁচ কোটি টাকা। আর তার পর থেকে রাতারাতি এলাকায় সেলিব্রিটির জায়গা লাভ করেছেন সাব্বির।

তিনি যে লটারির প্রথম পুরস্কার জিতেছেন, তা প্রথমে বিশ্বাস করতেই পারেননি। প্রথমদিন এ খবর কাউকে জানানি তিনি। পরের দিন স্ত্রীকে জানান। এর পর স্ত্রী ও পরিবারের অন্যদের পরামর্শে সমস্ত পরিচয়পত্র নিয়ে ওই লটারির দোকানে যান সাব্বির। তখনই একেবারে পরিষ্কার হয় যে তিনি সত্যিই ৫ কোটি টাকা জিতেছেন। আর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার তারকা শেখ সাব্বির হোসেন। কোটিপতিকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন আত্মীয়–পরিজন, বন্ধুবান্ধবরা। আসছেন অপরিচিত ব্যক্তিরাও। আপাতত লটারির টাকা হাতে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন কোটিপতি সেলিব্রিটি সাব্বির।

বন্ধ করুন