বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘দল চালাতে গেলে টাকা নিতে হয়’, মন্তব্য পঞ্চায়েত প্রধানের, সতর্ক করলেন সুব্রত
সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

‘দল চালাতে গেলে টাকা নিতে হয়’, মন্তব্য পঞ্চায়েত প্রধানের, সতর্ক করলেন সুব্রত

  • যদিও দলের সম্পর্কে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

রাজ্য–রাজনীতিতে নানা বিতর্কের মধ্যে সেমসাইড গোল তৃণমূল কংগ্রেস। আর বিধানসভার অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালেই সরগরম হয়ে উঠল সেই মন্তব্য নিয়ে। গলসির গোহগ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান রিঙ্কু ঘোষ বেফাঁস মন্তব্য করেছেন। আর তার জেরেই তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক। তিনি বলেন, ‘দল চালাতে গেলে টাকা নিতে হয়’। যদিও দলের সম্পর্কে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানের গলসির গোহগ্রাম পঞ্চায়েতের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে কয়েকদিন ধরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছিল। ২৯ জুনের অর্থ উপ–সমিতির সভা ঘিরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ঘটনার জেরে শোরগোল পড়ে যায়। উপপ্রধান বিমল ভক্তর অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধান রিঙ্কু ঘোষ সরকারি টেন্ডার অফ লাইনে করতে চাইছেন। গত ১৭ জুন এলাকার গলসির গোহগ্রাম পঞ্চায়েতে ২০১৯–২০ এবং ২০২০–২১ অর্থবর্ষে ঢালাই রাস্তা, নর্দমা, পুকুরঘাট তৈরির টেন্ডার ডাকার বিষয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক করা হয় অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু করা হবে। কিন্তু টেন্ডার নোটিশ জারি করেননি পঞ্চায়েত প্রধান।

আর তাতেই উপপ্রধান বিমল ভক্ত অভিযোগ করেন, ‘‌অফলাইন টেন্ডার হলে কিছু নেতা সুবিধা পাবে। কিছু ঠিকাদার বিনা প্রতিযোগিতায় বরাত পাবে। যেখান থেকে কিছু কাটমানি নেওয়া হবে। সেই টাকাতে নেতাদের পকেট ভরতে পারে।’‌ এই অভিযোগের পাল্টা দিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান রিঙ্কু ঘোষ বলেন, ‘‌পাটি চালাতে টাকা নেওয়া হয়। সেটা সবাই জানে। দল কীভাবে চলবে। তবে সেজন্যই অফলাইনের পরামর্শ কী না তা আমি জানি না। এক্ষেত্রে সেটা কাটমানি নয়। ঘরের জন্য কারও কাছে দশ–বিশ হাজার নিলে সেটাই কাটমানি?‌’‌

এই বিতর্ক তৈরির পর পঞ্চায়েত প্রধানের আরও দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত ওই পঞ্চায়েতের সব কাজ উপপ্রধান বিমল ভক্ত দেখতেন। সব টেন্ডার তিনিই করিয়েছেন। এখন নিজেই অন্যের নামে দোষ দিচ্ছেন। নতুন কাজ শুরুই হয়নি। তবে সবাই যখন অনলাইন টেন্ডার করতে চাইছেন তখন সবার কথা মতো অনলাইনেই টেন্ডার হবে। এই বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্য আশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‌প্রধান যা বলেছেন সঠিক বলেছেন। দলের নাম করে বিমল ভক্ত আগে গোটা পঞ্চায়েত চালিয়েছেন। তাছাড়া বালিঘাটের মালিকদের ছাড়পত্র দিতে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়েছে।’‌ এই ঘটনার পর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‌এত ছোট স্তরের বিষয়গুলো আমার কাছে আসে না। এগুলি সভাধিপতি বা জেলাশাসকের বিবেচনার ব্যাপার। তবে যদি কোনও অভিযোগ আসে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‌

বন্ধ করুন