বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > যকৃৎ প্রতিস্থাপনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে পিজি, দিল্লির সাহায্য ছড়াই যকৃৎ প্রতিস্থাপন
SSKM হাসপাতাল। ফাইল ছবি

যকৃৎ প্রতিস্থাপনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে পিজি, দিল্লির সাহায্য ছড়াই যকৃৎ প্রতিস্থাপন

  • যকৃৎ প্রতিস্থাপনে ক্রমেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে এসএসকেএম হাসপাতাল। বহু বছর ধরে শেখার পর অবশেষে এখন নিজেরাই যকৃৎ প্রতিস্থাপন করতে পারছেন এসএসকেএম হাসপাতালের স্কুল অফ ডাইজেস্টিভ এন্ড লিভার ডিজিজ (এসডিএলডি)-এর চিকিৎসকরা।

যকৃৎ প্রতিস্থাপনে ক্রমেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে এসএসকেএম হাসপাতাল। বহু বছর ধরে শেখার পর অবশেষে এখন নিজেরাই যকৃৎ প্রতিস্থাপন করতে শিখেছেন এসএসকেএম হাসপাতালের স্কুল অফ ডাইজেস্টিভ এন্ড লিভার ডিজিজ (এসডিএলডি)-এর চিকিৎসকরা।

গত ৮ ডিসেম্বর পিজিতে ব্রেন ডেথ হওয়া এক ব্যক্তির যকৃৎ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে অন্য এক ব্যক্তির শরীরে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিজেরাই যকৃৎ প্রতিস্থাপন করেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বপন বৈদ্য নামে ৫৮ বছরের এক ব্যক্তির শরীরে যকৃৎ প্রতিস্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা। সাধারণত যকৃৎ প্রতিস্থাপনের জন্য এতদিন দিল্লির উপরেই ভরসা করতে হয়েছে পিজির চিকিৎসকদের।

এতদিন দিল্লির বেসরকারি হাসপাতালের যকৃৎ শল্যচিকিৎসক সুভাষ গুপ্ত পিজিতে কোনও যকৃৎ প্রতিস্থাপন করা হলে সরাসরি দিল্লি থেকে চলে আসতেন। তিনি নিজেই যকৃৎ প্রতিস্থাপনের কাজ করেছেন। আর সেই সঙ্গে পিজির চিকিৎসকদের হাতে ধরে যকৃৎ প্রতিস্থাপন করা শিখিয়েছেন।

২০০৯ সালে পূর্ব ভারতের একমাত্র সরকারি হাসপাতাল পিজির এসডিএলডি-তে প্রথম বিনা খরচে আট মাসের শিশু রোশন আলির লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। হাসপাতালের হেপাটোলজিস্ট অভিজিত্‍ চৌধুরীর জানান, 'ব্রেন ডেথের পরে অঙ্গদান তখনও সে ভাবে প্রচলিত ছিল না। শিশুটির বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি রজব আলি ছেলেকে লিভারের অংশ দিতে পারবেন বলে জানিয়েছিলেন চিকিত্‍সকেরা। কিন্তু যকৃৎ প্রতিস্থাপনের জন্য কলকাতায় চিকিৎসক না থাকায় যকৃত্‍ প্রতিস্থাপনের শল্যচিকিত্‍সক সুভাষ গুপ্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

রোশনকে দিয়েই কলকাতায় লিভার প্রতিস্থাপন শুরু হয়েছিল। পিজির গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের প্রধান চিকিত্‍সক গোপালকৃষ্ণ ঢালি বলেন, 'কলকাতার পিজি হাসপাতাল এখনও পর্যন্ত যতগুলো লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছে সবগুলোতে সুভাষ বাবু সাহায্য করেছেন। তিনি নিজেই লিভার প্রতিস্থাপন করা অন্য চিকিৎসকদের শেখাতেন।' তিনি আরও জানান, 'লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে তাঁর দৌলতে এখন কলকাতার চিকিৎসকরা যকৃৎ প্রতিস্থাপনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বপন বাবু আজ বৃহস্পতিবার পিজি থেকে ছাড়া পাবেন। শিশুদের সাফল্যে আজ সুভাষ বাবু দিল্লি থেকে কলকাতায় আসবেন।

বন্ধ করুন