বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‌বাঁকুড়ার শিশু পাচারকাণ্ডে নিষিদ্ধপল্লির যোগ খুঁজে পেল পুলিশ!
শিশুপাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত
শিশুপাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত

‌বাঁকুড়ার শিশু পাচারকাণ্ডে নিষিদ্ধপল্লির যোগ খুঁজে পেল পুলিশ!

  • অপরদিকে এই ঘটনায় বিজেপি যোগের সম্ভাবনের অভিযোগে টুইট রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার

বাঁকুড়ার শিশু পাচার চক্র নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যে। ধৃতদের জেরা করে যেমন একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে, অপরদিকে এই নিয়ে বিজেপি যোগের সম্ভাবনের অভিযোগ তুলে টুইটও করেছেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা।

বাঁকুড়ায় শিশু পাচার কাণ্ডে ধৃতদের জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে বাকি অভিযুক্তরা শিকার করে নিয়েছে যে, অধ্যক্ষের নির্দেশেই শিশু পাচার করা হচ্ছিল। ইতিমধ্যে পাঁচজন শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা জানতে ধৃতদের জেরা করছে তদন্তকারীরা। আবার এই চক্রের সঙ্গে যৌনপল্লীর যোগও খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার মূল অভিযুক্ত কেকে রাজোরিয়া ছাড়া ধৃত অধিকাংশ অভিযুক্তের বাড়িই দুর্গাপুরের কাদা রোড এলাকায়। আর এই কাদা রোড মূলত ওই এলাকার নিষিদ্ধপল্লি বলেই পরিচিত।

ধৃত গাড়ির চালক সাগর বাদ্যকর, স্বপন দত্তের দুর্গাপুরের কাদা রোডের চা দোকানের মালিক। এই স্বপনই পাচারের মূল এজেন্ট ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। ধৃত সুনীতা বাদ্যকর, রিয়া বাদ্যকর, দেব বাদ্যকর নামের অপর ৩ ধৃতের বাড়িও দুর্গাপুরের কাদা রোডেই। সে ক্ষেত্রে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে, এই পাচারের সঙ্গে নিষিদ্ধপল্লির কোনও যোগ থাকলেও থাকতে পারে। অবশ্য সেই দিকটা তদন্ত করে দেখছেন পুলিশ অফিসাররা। সে ক্ষেত্রে এবার এই শিশু পাচার কাণ্ডের সঙ্গে নিষিদ্ধপল্লির যোগের অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, রাজোরিয়ার কোয়ার্টারে দু’‌জন শিশু কন্যাকে দেখা গিয়েছিল। একজনের ৪ ও অন্যজনের ৬ বছর বয়স। অথচ ওই অধ্যক্ষ একাই থাকতেন। অধ্যক্ষের বাড়িতে এত ছোট শিশুকে দেখে সন্দেহ হয়েছিল স্কুলের কর্মীদেরও। কারণ, ওই স্কুলে ১২ বছরের উপর বয়সী বাচ্চাদের ভরতি করা হত। যদিও ওই অধ্যক্ষ বাচ্চা দু’‌টিকে নিজের আত্মীয়ের সন্তান বলেই পরিচয় দিয়েছিলেন। 

অন্য দিকে, শিশু পাচারকাণ্ডে বিজেপি যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরে টুইট করেছেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারের সঙ্গে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের একই মঞ্চের ছবিও টুইট করেছেন তিনি।

বাঁকুড়া-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সন্দীপ বাউড়ির বলেন, ‘‌এই অধ্যক্ষ তো যে সমস্ত বাড়িতে সুন্দরী মহিলা রয়েছে, সেখানেই চা খেতে যেতেন। এলাকার বিজেপি নেতাদের সঙ্গেও বেশ ভাল যোগাযোগ ছিল অভিযুক্তের। আমার তো মনে হয়, সুভাষ সরকার কেন্দ্রের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এই অধ্যক্ষের সাহসটাও বেড়েছিল।’‌

এর পাল্টা বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌ এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু কারও সঙ্গে কারও ছবি নিয়ে কাউকে বিজেপি কর্মী বানিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তিনি দোষী নাকি নির্দোষ আমার জানা নেই। দলেরও জানা নেই। তবে টুইট করে যিনি বলছেন সুভাষ সরকারের সঙ্গে ধৃতের ছবি আছে, এরকম ছবি তো অনেকেরই থাকে।’‌

তদন্ত যত এগোচ্ছে, এই ঘটনার পরতে পরতে রহস্য উদ্ঘাটন হচ্ছে। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য আদায় করার চেষ্টা করে এই ঘটনার গোড়ায় যেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

 

বন্ধ করুন