বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট প্রাক্তন 'প্রেমিকের', আত্মঘাতী দশম শ্রেণির ছাত্রী
ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট প্রাক্তন 'প্রেমিকের', আত্মঘাতী দশম শ্রেণির ছাত্রী
ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট প্রাক্তন 'প্রেমিকের', আত্মঘাতী দশম শ্রেণির ছাত্রী

ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট প্রাক্তন 'প্রেমিকের', আত্মঘাতী দশম শ্রেণির ছাত্রী

  • প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক।

ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করায় মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হলেন এক স্কুলছাত্রী। লজ্জায়-‌অপমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কাকদ্বীপে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। স্কুল ছাত্রীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল ওই ছাত্রী। ২০১৯ সালের এপ্রিলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে ভিনরাজ্যে পালায় বাপ্পা। খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন নাবালিকার বাবা। ঘটনার তদন্তে নেমে মাস দুয়েকের মধ্যে ভিনরাজ্য থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি নাবালিকা অপহরণের অভিযোগে বাপ্পাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ছাত্রীকে হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার পরিবার মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। এই ঘটনায় আদালতে বাপ্পার বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দেয় পুলিশ।

বাড়ি ফেরার পর আবার পড়াশুনা শুরু করে ওই ছাত্রী। তারই মধ্যে ফের অপর যুবকের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। মাস সাতেক আগে জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরে বাপ্পা। এসে ওই নাবালিকার নতুন সম্পর্কের বিষয় জানতে পারে সে। অভিযোগ, তার পর থেকেই তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে ওই যুবক। তার আবেদনে সাড়া না দেওয়ায়, নানা ভাবে ওই ছাত্রীকে হেনস্থা করতে শুরু করে যুবক। এমনকী, তাকে উত্যক্ত করার পাশাপাশি হুমকিও দিত বলে অভিযোগ। ঘটনার সূত্রপাত হয় মাস পাঁচেক আগে। ওই স্কুলপড়ুয়ার কয়েকটি অশালীন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়বলে অভিযোগ উঠে। সেই ছবি নজরে আসতে ছাত্রীর বাবা সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন। পরে সাইবার ক্রাইম থানার তরফে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওই কিশোরীর সমস্ত ছবি মুছে ফেলা হয়।

কিন্তু সপ্তাহখানেক আগেই ওই ছাত্রী তার এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে যে, তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছিল। তারপর থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে কিশোরী। তার অভিভাবকেরা বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে মানসিক অবসাদ করানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু রবিবার রাতে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় সে।

বন্ধ করুন