বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > CPIM: বর্ধমানে পার্টি অফিসের গাড়ি বিক্রি করে দেবে সিপিএম, সাইকেল চাপবে সর্বহারার দল?

CPIM: বর্ধমানে পার্টি অফিসের গাড়ি বিক্রি করে দেবে সিপিএম, সাইকেল চাপবে সর্বহারার দল?

গাড়ি বেচে দেবে সিপিএম। প্রতীকী ছবি

বাসিন্দাদের একাংশের মতে, আসলে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে দল ক্রমে ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকে। দলে লেভি দেওয়ার মতো লোকজনের সংখ্যাও কমতে থাকে। দলের আয়ের উৎসগুলোও বন্ধ হতে শুরু করে।

৩৪ বছরের দোর্দন্ডপ্রতাপ শাসক। পাড়ায় পাড়ায় লাল পতাকার দাপট যেন কার্যত মিথ হয়ে গিয়েছিল বাংলায়। দমদম থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ সর্বত্রই লালের দাপট ছিল একদিন। তবে সেসবই আজ শুধুই স্মৃতি। এখন কোথাও কোথাও দলের কার্যত ভাড়ে মা ভবানী অবস্থা। ক্ষমতা একেবারে তলানিতে। আর তার জেরেই এবার গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব বর্ধমান সিপিএম।

একটা সময় বাম দুর্গ ছিল বর্ধমান। বিরোধীরা কার্যত মাথা তোলার সুযোগ পেতেন না। ধুলো উড়িয়ে চলে যেত সিপিএম নেতার গাড়ি। তবে এবার সেই গাড়িই বিক্রি করে দিতে চাইছে পূর্ব বর্ধমান সিপিএম। কিন্তু হলটা কী?

সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জেলা কার্যালয়ে থাকা ৬টি গাড়িই বিক্রি করে দেওয়া হবে। এদিকে অনেকের মতে, বাম আমলের একেবারে প্রথম দিকে দেখা যেত বাম নেতারা সাইকেলে চেপে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। গরিব মানুষদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছেন। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, ক্ষমতার দিন যত পেরিয়েছে ততই পাড়ায় পাড়ায় বাড়তে থাকে সিপিএমের দাপট। সিপিএম নেতাদের দেখা যেত বিলাসবহুল গাড়ি চাপছেন। তবে এবার কি ফের সাইকেলে ফিরবেন সিপিএম নেতৃত্ব?

তবে বাসিন্দাদের একাংশের মতে, আসলে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে দল ক্রমে ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকে। দলে লেভি দেওয়ার মতো লোকজনের সংখ্যাও কমতে থাকে। দলের আয়ের উৎসগুলোও বন্ধ হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রে আরও গরিব হতে শুরু করে সিপিএম।সেক্ষেত্রে গাড়ি চড়ার মতো বিলাসিতা আর করতে চাইছে না পূর্ব বর্ধমান জেলা সিপিএম। সূ্ত্র বলছে, একটা সময় শিক্ষক, অধ্যাপকরা, বিধায়করা দলের একটা বড় অংশের খরচ বহন করতেন। ৬টা কেন দলের ৬০টা গাড়ি থাকলেও তার ব্যয় বহন করাটা কোনও ব্যাপার ছিল না। তবে আজ আর সেই পরিস্থিতি নেই। কার্যত সেকারণেই গাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত।

পার্টি অফিসে ৩টি বড় ও ৩টি ছোট গাড়ি রয়েছে। সেই গাড়িগুলিই বিক্রি করা হবে। তবে সিপিএম নেতৃত্বের দাবি লেভি আদায় সংক্রান্ত কোনও ব্যাপার নয়। গাড়িগুলি পুরানো হয়ে গিয়েছে। মেরামতির খরচ বেড়ে যাওয়ায় তা রাখা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। এত খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই জেলা কমিটির তরফে গাড়িগুলি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই গাড়ি বিক্রি নিয়ে আবার অনেকের মনেই আসছে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের ২২ লাখের গাড়ির প্রসঙ্গ। তবে তিনি অবশ্য গাড়ির টাকা কোথা থেকে এসেছে তা জানিয়েছিলেন। তবে শতরূপ ২২ লাখের গাড়ি চড়লেও পূর্ব বর্ধমান সিপিএম কিন্তু গাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলল।

 

বন্ধ করুন