বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > পুরুলিয়ার প্রান্তিক মেয়েদের একটাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বেচছেন পড়ুয়ারা
মাত্র একটাকার বিনিময়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ফেস মাস্কের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে বেবিফুড ও অন্যান্য দরকারি সামগ্রী।
মাত্র একটাকার বিনিময়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ফেস মাস্কের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে বেবিফুড ও অন্যান্য দরকারি সামগ্রী।

পুরুলিয়ার প্রান্তিক মেয়েদের একটাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বেচছেন পড়ুয়ারা

  • ২৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৫টি জনজাতি অধ্যুষিত গ্রামে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়েছে ভ্রাম্যমান বাজার।

লকডাউনে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন, বেবিফুড ও মাস্ক পৌঁছে দিতে অভিনব পরিকল্পনায় নজির গড়লেন কলেজ পড়ুয়ারা।

পুরুলিয়া শহর থেকে ২৯০ কিমি দূরে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন চক্র, বোরালডিঙ্গা, পিস্কাপাহাড়ির মতো প্রান্তিক গ্রামগুলিতে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অত্যাবশ্যক পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছিল পড়ুয়াদের উদ্যোগে গড়ে তোলা চলমান ‘এক টাকার বাজার’। এই বাজারে মাত্র একটাকার বিনিময়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ফেস মাস্কের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে বেবিফুড ও অন্যান্য দরকারি সামগ্রী। 

প্রকল্পের মূল ভাবনা পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা আইটিআই পাশ করে বেরোনো অতনু টিকাইতের। লকডাউনে বিচ্ছিন্ন প্রান্তিক এলাকার ২৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৫টি জনজাতি অধ্যুষিত গ্রামে ইতিমধ্যে পৌঁছে দিয়েছে তাঁদের এই ভ্রাম্যমান বাজার, জানিয়েছেন অতনু। পাইকারি দরে নিত্যপ্রয়োজনী সামগ্রী  কেনার পরে মোটরসাইকেলে গ্রামে গ্রামে সে সব পৌঁছে দিয়েছেন অতনু ও তাঁর সঙ্গীরা। 

গ্রামীণ জনজাতিভুক্ত মহিলাদের পক্ষে প্রকাশ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনা কঠিন সমস্যা। পুরুষ বিক্রেতাদের থেকে তা কিনতে অস্বস্তি বোধ করেন গ্রামের মেয়ে-বউরা। এই কারণে ঘরে ঘরে প্রচার করে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রি করার কাজটি করেছেন দলের মহিলা সদস্য তথা বাংলা সাহিত্যের স্নাতক কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মৌসুমি মাহাতো। তাঁর দাবি, এই কাজে প্রান্তিক মেয়েদের থেকে সদর্থক সাড়া পেয়েছেন। এক হাজারের বেশি প্যাকেট ন্যাপকিন বিক্রি হয়েছে প্রথম  দফায়।

বিনামূল্যে বিতরণ না করে একটাকার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার পিছনে অন্য ভাবনা ছিল, জানিয়েছেন অতনু। গ্রামের মানুষের অহংয়ে যাতে আঘাত না লাগে, তা চিন্তা করেই এই বুদ্ধি ঠাওরান তাঁরা। 

তবে কাজ নিয়ে কোনও প্রচারে আগ্রহ নেই সংগঠনের সদস্যদের। এ পর্যন্ত নিজেদের চাঁদায় যতটুকু কুলিয়েছে তার পাশাপাশি স্বেচ্ছায় কেউ অর্থদান করলে তা স্বীকার করেছেন তাঁরা।

অতনুর কথায়, ‘এখনও পর্যন্ত কারও কাছে অর্থ সাহায্যের জন্য আবেদন জানাইনি। এনজিও হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্তও করা হয়নি। কেউ হয়ত বিশ্বাস করবেন না, এখনও পর্যন্ত যা কাজ হয়েছে, তার জন্য একলাখ টাকার সামান্য বেশি খরচ হয়েছে। পরিবহণ, প্রচার ও প্রাতিষ্ঠানিক কোনও খরচ করা হয়নি। আমরা চাঁদার টাকায় বাইকের পেট্রলও কিনি না।’

মলস্রোতের সংবাদমাধ্যম গ্রাহ্য না করলেও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন অতনু ও তাঁর বন্ধুরা। স্বাস্থ্যকর্মী ধরিত্রী গোস্বামী যেমন পড়ুয়াদের উৎসাহ দিয়ে অতনুর সোশ্যাল মিডিয়া পেজ-এ লিখেছেন, ‘টাকার জন্য দয়া করে থামবেন না।’  

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড সুন্দরবনের জন্য ত্রাণ হিসেবে একটি ট্রাস্ট-কে অর্থদানও করেছেন অতনু টিকাইত ও তাঁর সহযোদ্ধারা। 

বন্ধ করুন