বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মদতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ১৮ কোটি টাকা 'জালিয়াতি', ধৃত ৩
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতি, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার-সহ ধৃত ৩। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতি, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার-সহ ধৃত ৩। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)

ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মদতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ১৮ কোটি টাকা 'জালিয়াতি', ধৃত ৩

ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তিনজনে মিলে ব্যাঙ্ক থেকে দফায় দফায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। সমস্ত ভাউচারে সই করেছেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার।

‌রক্ষকই ভক্ষক। যাঁর কাঁধে গ্রাহকদের টাকা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। ঘাটালের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা থেকে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ উঠল খোদ ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের বিরুদ্ধেই!‌ ‌তাঁকে সাসপেন্ড করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তারপর অভিযুক্ত ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের নাম গৌতম দত্ত। কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি। বৃহস্পতিবার ওই ব্যাঙ্ক ম্যানেজারেক ঘাটাল মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটালের ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে জালিয়াতি ধরা পড়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের গোড়ায়। রাজীব বক্সি নামের এক ব্যক্তি ওই শাখায় হাজির হন। সেখানে গিয়ে ব্যাঙ্ক কর্মী শ্রীমন্ত দাসের সঙ্গে প্রথমে আলাপ জমান। তিনি ওই ব্যাঙ্ক কর্মীকে নিজের নাম ভাঁড়িয়ে গৌতম বন্দোপাধ্যায় বলে পরিচয় দেয়। আর এও জানায় যে, সে সাইবার ক্রাইম শাখার অফিসার। আর তিনি জানতে পেরেছে ওই শাখায় সাইবার জালিয়াতি করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো হচ্ছে। সেই কারণে তদন্তের জন্য এসেছে। এরপর ওই ব্যক্তিকে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার গৌতম দত্তের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন শ্রীমন্ত। অভিযোগ, তার পর থেকেই ওই জালিয়াত তদন্ত করার অছিলায় ফোন করে একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলার নির্দেশ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, শ্রীমন্ত দাস প্রায়শই ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কোড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে দিতেন। 

একইভাবে দিল্লির একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৪২,২,৭০৫ টাকা তোলা হয়। দিল্লির ওই ব্যাঙ্কের শাখা সেই কারচুপি ধরে ফেলে। তারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ম্যানেজারকে অভিযোগ জানায়। রিজিওনাল ম্যানেজার গৌতম মুনি তদন্তে নেমে দেখেন, ধাপে ধাপে সেই টাকা ঘাটালের ওই শাখার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। তিনি ঘাটাল থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে এইভাবেই মোট ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতি হয়েছে ওই ব্যাঙ্ক থেকে।

এই ঘটনায় তখন থেকেই রাজীব বক্সি ওরফে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন ঘাটাল মহকুমার এসডিপিও অগ্নিশ্বর চৌধুরী। তদন্তে নেমে ঘাটালের সুলতানপুর এলাকা থেকে প্রথমে ওই ব্যাংকের পদস্থ কর্মী শ্রীমন্ত দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জালিয়াতি কাণ্ডের মূল পাণ্ডা রাজীব বক্সির খোঁজ পায় পুলিশ। ১৯ মে মধ্যরাতে আরামবাগ থেকে রাজীবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে মহকুমা আদালতে তোলা হলে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।বুধবার ব্যাঙ্ক ম্যানেজার গৌতম দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘাটাল থানায় ডেকে পাঠানো হয়। উত্তরে সন্তুষ্ট না হতে পেরে তাঁকেও গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতি কাণ্ডে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তিনজনে মিলে ব্যাঙ্ক থেকে দফায় দফায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। সমস্ত ভাউচারে সই করেছেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার গৌতমবাবুই।

বন্ধ করুন