বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সাত ঘণ্টায় ‘পরিবর্তন’, শাহ-সন্তোষের ‘নির্দেশে’ ইস্তফাপত্র ফিরিয়ে নিলেন সৌমিত্র

সাত ঘণ্টাও কাটল না। নেটমাধ্যমে বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি পদ থেকে যে ইস্তফা দিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে নিলেন সৌমিত্র খাঁ। সেই ঘোষণাও নেটমাধ্যমে সেরেছেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ।

বুধবার রাত ন'টার দিকে নেটমাধ্যমে সৌমিত্র লেখেন, ‘আমি জানাতে চাই যে বিজেপি নেতা বি এল সন্তোষজি, অমিত শাহজি এবং তেজস্বী সূর্যজির নির্দেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিচ্ছি।’ যদিও রাজ্য বিজেপির অন্দরের খবর, সৌমিত্রের ‘মানভঞ্জনে’ শাহ বা সন্তোষ ফোন করেছিলেন কিনা, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। বরং একাংশের দাবি, নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের চার সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করলেও তাঁর ভাগ্যে শিঁকে না ছেঁড়ায় ‘রাগ’ হয়েছিলেন সৌমিত্রের।

যদিও বিষ্ণুপুরের সাংসদ নিজে সেই সংক্রান্ত কোনও কথা বলেননি। বরং টুইটারে নয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের প্রশংসা করেছেন। পদত্যাগের পর দুপুরে ফেসবুক লাইভেও মোদীদের প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিধানসভা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একেবারে রণংদেহী মেজাজে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে শুভেন্দুর নাম না করে অভিযোগ করেন, এককেন্দ্রিক দল হয়ে যাচ্ছে বিজেপি। একজন বারবার ভুল বোঝাচ্ছেন। একটি জায়গায় দু'জন (পড়ুন শুভেন্দু এবং দিলীপ) নেতা হয়ে চলছে। ‘যেভাবে অধিকারী-অধিকারী করছেন, তাতে আমি হতাশ।’ পরে অবশ্য কোনও রাখঢাক না করে সরাসরি বাংলা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সম্বোধন করে সৌমিত্র তোপ দাগেন, ‘যিনি বিরোধী নেতা হয়েছেন, আয়নায় মুখ দেখুন। দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাকে মুখ ভুল বোঝাবেন না। ’

তবে সেখানেই সৌমিত্রের বাণ থামেনি। ঘুরিয়ে তিনি দাবি করেন, 'বাবা শিশির অধিকারী এবং ভাইকে কোনও পদে বসানোর জন্য দিল্লিতে দরবার করছেন শুভেন্দু। বারবার দিল্লিতে গিয়ে উলটো-পালটা বুঝিয়ে আসছেন। যেন মনে হচ্ছে, তিনি বিজেপির জন্য জীবনটা দিয়ে দিয়েছেন। আমাদের কোনও অবদান নেই। আমি কখনও ঘরের লোকের জন্য চাইনি যে ভাই, বাবাকে এই করে দাও, ভাইকে এই করে দাও, এই পদে দাও - এরকম কখনও চাইনি। আমি এরকম কখনও চাইনি।' সঙ্গে দাবি করেন, কোনও স্বার্থ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস করেননি। বিজেপিও নিঃস্বার্থভাবে করেছেন।

দিলীপকেও তোপ দেগেছিলেন সৌমিত্র। অভিযোগ করেছিলেন, অর্ধেক কথাই বোঝেন না বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পরে সৌমিত্রের পদত্যাগ প্রসঙ্গে দিলীপ জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে ঘোষণা করে পদত্যাগ হয় না। তার কিছু নিয়ম আছে। সেই নিয়ম সৌমিত্র মেনেছিলেন, তা জানার আগেই অবশ্য পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিয়েছেন বিষ্ণপুরের সাংসদ।

বন্ধ করুন