কাজ খুঁজতে এসে লকডাউনে শিলিগুড়িতে আটকে পড়েছেন নেপালের এই অসহায় তরুণরা।
কাজ খুঁজতে এসে লকডাউনে শিলিগুড়িতে আটকে পড়েছেন নেপালের এই অসহায় তরুণরা।

বন্ধ সীমান্ত, শিলিগুড়িতে অনাহারে দিন কাটছে ২১ অসহায় নেপালি তরুণের

  • সরকারি আশ্রয় শিবিরে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হলেও রোজ খাবার জোটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ভিনদেশি তরুণরা।

গত ২৩ মার্চ কাজের খোঁজে নেপাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি পৌঁছেছিলেন ২১ জন তরুণ। লকডাউন জারি হওয়ায় কাজ তো ছাড়, ঘরে ফিরতে পারছেন না তাঁরা। 

রোজগারের আশায় নেপালের ড্যাং অঞ্চল থেকে কাঁকরভিটা হয়ে পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন রাকেশ কথায়ত ও তাঁর ২০ জন বন্ধু। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার গেরোয় এখন বিদেশে আটকে পড়ছেন সকলেই। 

শিলিগুড়িতে সরকারি আশ্রয় শিবিরে কোনও মতে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হলেও হাতে টাকাপয়সা না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। রোজ খাবার জোটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। রাকেশের বন্ধু নিকেশ মল্ল জানিয়েছেন, শনিবার রাত থেকে তাঁদের খাওয়া জোটেনি।

৩০ কিমি হেঁটে দেশে ফেরার জন্য পানিট্যাঙ্কি পৌঁছলে তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন সীমান্তের দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র সীমা বল বাহিনীর জওয়ান ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। অথচ চোখের সামনে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে প্রবেশকারী ট্রাকের দিকে সতৃষ্ণ নয়নে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনও উপায় ভেবে পাচ্ছেন না রাকেশ ও তাঁর সঙ্গীরা। 

গত রবিবারও শিলিগুড়ি থেকে সারা রাত বৃষ্টি মাথায় করে হেঁটে তাঁরা পানিট্যাঙ্কি পৌঁছন। কিন্তু অনেক অনুনয় সত্ত্বেও দেশে ফেরার ছাড়পত্র মেলেনি। এমনকি শিলিগুড়িতে নেপাল সরকারের কয়েক জন আধিকারিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রাকেশদের। 

করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন জারি হওয়ায় ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কি-কাঁকরভিটা সীমান্তে ভারত ও নেপালের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে মেচি নদী। সাধারণ দুই সীমান্ত শহরের মধ্যে ১ কিমিরও কম দূরত্ব রোজই পেরিয়ে যান দুই দেশের অসংখ্য মানুষ। 

করোনা প্রকোপের জেরে গত মার্চ মাসের ২৪ তারিখ থেকে সিল করে দেওয়া হয়েছে সীমান্ত। শুধু কলকাতা বন্দর থেকে অত্যাবশকীয় পণ্য নিয়ে পানিট্যাঙ্কি পেরিয়ে কাঁকরভিটায় যেতে দেওয়া হচ্ছে ট্রাকগুলিকে। ফেরার পথে আবার এই রাস্তা বন্ধ রাখছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তাই বিহারের যোগবাণী সীমান্ত হয়ে ভারতে ফিরছে ট্রাকের সারি। 

রাকেশদের অবস্থা দেখে খারাপ লাগলেও তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর উপায় নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের ডেপুটি সুপার অচিন্ত্য গুপ্ত। 

বন্ধ করুন