বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > নামেই বন্ধ ইন্টারনেট, ফরাক্কায় ফাঁস হল মাধ্যমিকের জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন
প্রতীকি ছবি (PTI)
প্রতীকি ছবি (PTI)

নামেই বন্ধ ইন্টারনেট, ফরাক্কায় ফাঁস হল মাধ্যমিকের জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন

  • স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ মানেনি সমস্ত সংস্থা। ১টি সংস্থা ইন্টারনেট বন্ধ রাখলেও ২টি সংস্থার কানেকশনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা গিয়েছে।

শ্রেয়সী পাল

মাধ্যমিকে প্রশ্নফাঁসের ধারা অব্যহত। বুধবার মাধ্যমিক ২০২০-র জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষাতেও ফাঁস হয়ে গেল প্রশ্নপত্র। এদিন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্র। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সেখানে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল প্রশাসন। তবু রোখা গেল না অঘটন।

বুধবার মাধ্যমিকের জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নপত্র বাইরে বেরিয়ে যায় বলে অভিযোগ। যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে তার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানতে পেরেছে। গ্রুপের সমস্ত সদস্যই ছাত্র।

ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ওসব ভুয়ো খবর।’ ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে গিয়েছে বলে সাংবাদিক তাঁকে জানালে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কাছে নালিশ জানান। তারাই পদক্ষেপ করবে।’

এই নিয়ে এবারের মাধ্যমিকে তৃতীয়বার ফাঁস হল প্রশ্নপত্র। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এর মধ্যে বাংলা, ইংরাজি ও জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ভুগোল প্রশ্নও ফাঁস হওয়ার খবর ছড়ায়। পরে দেখা যায় প্রশ্নপত্রটি গত বছরের। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত সন্দেহে এখনো পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গণিত পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্রের ছবি তোলার সময় উত্তর দিনাজপুরে ধরা পড়েছে ২ পরীক্ষার্থী। মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষায় বসায় বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জন পরীক্ষার্থীকে।

এদিন পরীক্ষা শুরুর ৪৫ মিনিট পর বেলা ১২.৪৫ মিনিট নাগাদ ‘অর্জুনপুর সোশ্যাল গ্রুপ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্রের ছবি পোস্ট করেন আজমল হক নামে এক ব্যক্তি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয় ছবিগুলি।

আজমল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে প্রাকপ্রাথমিকের শিক্ষক বলে পরিচয় দেন। জানান, ‘মালদার মোথাবাড়ির বাসিন্দা এক বন্ধু আমাকে এই ছবিগুলি পাঠিয়েছেন। আমি সেগুলি শেয়ার করেছি মাত্র। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

মুর্শিদাবাদের শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, ‘মুর্শিদাবাদ জেলায় ফরাক্কা-সহ ৮টি ব্লকে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। তাও কী করে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র ছড়াচ্ছে বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ মানেনি সমস্ত সংস্থা। ১টি সংস্থা ইন্টারনেট বন্ধ রাখলেও ২টি সংস্থার কানেকশনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা গিয়েছে।



বন্ধ করুন