বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > মগরাহাটে অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলার মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ
 আত্মঘাতী বধূ। প্রতীকী ছবি (HT_PRINT)
 আত্মঘাতী বধূ। প্রতীকী ছবি (HT_PRINT)

মগরাহাটে অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলার মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ

  • প্রথম সন্তানের জন্মের পরও টাকা আদায় নিয়ে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত। মত্ত অবস্থায় বেধড়ক মারধর করা হত তনিমাকে।

মগরাহাটে অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলার রহস্যমৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়াল। কীভাবে মহিলার মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে নানা অসংগতি রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে মহিলার স্বামীর অবশ্য বক্তব্য, নিজের বাচ্চাকে মেরে ফেলতেই ইঁদুর মারার বিষ খেয়েছিল তাঁর স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে খবর, ৯ বছর আগে মগরাহাট থানার গোলাবাড়ির বাসিন্দা তনিমার সঙ্গে বিয়ে হয় সাবির ঢালির। বিয়ের পর থেকে পণ আদায় নিয়ে তনিমার ওপর নানা ধরনের অত্যাচার চলত। পণের টাকা মেটানোর পরও তনিমার ওপর অত্যাচারের মাত্রা কমেনি। বরঙ আরও তা বেড়ে গিয়েছে। এরইমধ্যে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন তনিমা। প্রথম সন্তানের জন্মের পরও টাকা আদায় নিয়ে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত। মত্ত অবস্থায় বেধড়ক মারধর করা হত তনিমাকে। সম্প্রতি তনিমা আরও একবার অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু ঘরে অশান্তি কমেনি। গত শনিবারও মত্ত অবস্থায় সাবির মারধর করেন তনিমাকে। দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হয়। প্রতিবেশিদের কানেও চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ আসে। বেশ কিছুক্ষণ পর তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে সন্দেহ না হলেও পরে কৌতুহলবশত প্রতিবেশিরা খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায়, তনিমা বাড়ির বিছানায় শুয়ে আছে। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় বাপের বাড়িতেও। বাপের বাড়ির লোকেরা তনিমাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মেয়ের বাড়ির লোকেদের তরফে সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তনিমার স্বামী সারিবের বয়ানে একাধিক অসংগতি ধরা পড়েছে। একবার তিনি দাবি করেছেন, তনিমা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। আবার তাঁর দাবি ছিল, তনিমা নিজের পেটের বাচ্চাকে মেরে ফেলার জন্য বিষ খেয়েছিলেন। তবে সত্যিটা কী, সেটাই খুঁজে বের করছে পুলিশ।

বন্ধ করুন