বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > চার মাস আগে বাবা, মা, বোন, ঠাকুমাকে খুন করে পুঁতেছিল দেহ, মালদহে গ্রেফতার যুবক
এই বাড়ির কাছেই পুঁতে রাখা হয়েছিল দেহ। (ছবি সৌজন্য নিজস্ব)
এই বাড়ির কাছেই পুঁতে রাখা হয়েছিল দেহ। (ছবি সৌজন্য নিজস্ব)

চার মাস আগে বাবা, মা, বোন, ঠাকুমাকে খুন করে পুঁতেছিল দেহ, মালদহে গ্রেফতার যুবক

  • পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা, মা, বোন ও ঠাকুমাকে খুন করেছে বলে জানায় সে। 

মা, বাবা, ঠাকুমা ও বোন, পরিবারের চার সদস্যকে খুন করে মাটির তলায় পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠল ছোটো ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বড় ছেলে। শনিবার একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনকভাবে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের কালিয়াচকের পুরাতন ষোলো মাইল এলাকায়। দাদা আরিফের (২১)’‌র অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ভাই আসিফ মহম্মদ (১৯)কে গ্রেফতার করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে অভিযুক্ত।

আরিফের দাবি, তাঁকেও ভাই খুন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যত্র চলে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। বাড়িতে ফিরে দেখেন, সেখানে কেউ নেই। সবার কথা জিজ্ঞেস করতেই ভাই রেগে গিয়ে তাঁকে খুন করার চেষ্টা করে। তখন তিনি আবার পালিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম জাওয়াদ আলি, তাঁর মা আলেকজান খাতুন, স্ত্রী ইরা বিবি ও মেয়ে আরিফা খাতুন।

স্থানীয়দের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই ওই পরিবারের চার সদস্যকে তাঁরা বাড়িতে দেখতে পাননি। অথচ ওই যুবক সেই সময় বাড়িতেই ছিল। একাধিকবার পড়শিরা তার কাছ থেকে পরিবারের প্রত্যেকের খোঁজ নেন। প্রতিবেশীদের দাবি, সেই সময় আসিফ তাঁদের জানিয়েছিল, মা, বাবা, ঠাকুমা ও বোন বেড়াতে গিয়েছেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ওই চারজন কোথায় ঘুরতে গেলেন, তা নিয়ে সন্দেহের দানা বাঁধে প্রতিবেশীদের মনে।

ঘটনাটি শুক্রবার প্রকাশ্যে আসে যখন আরিফ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে গেলে রেগে যায় আসিফ। অভিযোগ, তাঁকেও খুনের চেষ্টা করে সে। এরপরই আরিফ পালিয়ে গিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ওই যুবককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। 

পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা, মা, বোন ও ঠাকুমাকে খুন করেছে বলে জানায় সে। প্রমাণ লোপাটের জন্য বাড়িতেই মাটির তলায় দেহ পুঁতে রেখেছে বলেও স্বীকার করে নেয় অভিযুক্ত। তবে এখনও দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কারণ, ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁর উপস্থিতিতে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করবে পুলিশ। কী কারণে প্রিয়জনদের খুন করল ওই যুবক, সেই প্রশ্ন উঠছে তদন্তকারীদের মধ্যে। সম্পত্তিগত বিবাদের জের নাকি এই খুন পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বন্ধ করুন