বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > চরম দারিদ্রতা, উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম হয়েও টাকার অভাবে সৌমেনের উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চান সৌমেন পাত্র। (সংগৃহীত)

চরম দারিদ্রতা, উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম হয়েও টাকার অভাবে সৌমেনের উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত

  • মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতিও এসেছে যে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু তবুও হাল ছাড়েননি সৌমেন। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। এমনকী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরেও সংসার চালানোর জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছিল দিল্লি।  পরে রেজাল্টের খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ছাত্র সৌমেন পাত্র। তিনি শ্রীধরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। কষ্টের সংসারে বহু প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এই সাফল্য পেয়েছেন। আনন্দে ভরে উঠেছিল একচিলতে ঘর। কিন্তু এবার উচ্চশিক্ষার জন্য পা বাড়াতে হবে সৌমেনকে। আর তখনই যেন অন্ধকার চেপে বসছে তার মনের মধ্যে। এবার কীভাবে আর্থিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন তা ভেবে কূল কিনারা পাচ্ছেন না তিনি।

তবে কি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না সৌমেনের? কাকদ্বীপের বামানগর সুবলা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র সৌমেন। এবার উচ্চমাধ্যমিকে তিনি ৪৯১ নম্বর পেয়েছেন। মেধাতালিকায় প্রথম দশের মধ্যে তিনি জায়গা করে নেন। কিন্তু এবার বাদ সেধেছে তীব্র আর্থিক অনটন। মা পরিচারিকার কাজ করে সৌমেনকে বড় করতে চান। বাবা তপন পাত্র দিল্লিতে গাড়ি ধোয়ার কাজ করেন। মা বাবা দুজনকেই সংসার চালানোর জন্য কার্যত ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়।

এমনকী মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতিও এসেছে যে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু তবুও হাল ছাড়েননি সৌমেন। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। এমনকী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরেও সংসার চালানোর জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছিল দিল্লি। সেখানে ছোট সংস্থায় কাজ করে কিছু আয়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। পরে রেজাল্টের খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

কিন্তু এবার কী হবে? সৌমেন বলেন, কোনও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। আবার হয়তে দিল্লি ফিরে যেতে হবে। ভেবেছিলাম নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মা বাবাকে গ্রামে ফিরিয়ে আনব। কিন্তু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে তো অনেক টাকার দরকার। সেটা জোগাড় হবে কী করে?

বন্ধ করুন