বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > কাঠগড়ায় তৃণমূল, বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব দেশের ৬০০ শিক্ষাবিদ
ভোট পরবর্তী হিংসার দৃশ্য কোচবিহারে (ফাইল ছবি : এএনআই)
ভোট পরবর্তী হিংসার দৃশ্য কোচবিহারে (ফাইল ছবি : এএনআই)

কাঠগড়ায় তৃণমূল, বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব দেশের ৬০০ শিক্ষাবিদ

  • রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ ভাবে বিবৃতি প্রকাশ করলেন দেশের ৬০০ জন শিক্ষাবিদ।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ১ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে এখনও রাজ্যে ঘটে যাওয়া নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিতর্ক থামার নাম নেই। অনেক ক্ষেত্রে ঘরছাড়ারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারলেও অভিযোগ উঠেছে যে এখনও বহু জায়গায় ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন বহু পরিবার। এই আবহে এবার রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দায় সরব হয়েছেন দেশের ৬০০ জন শিক্ষাবিদ। এই বিষয়ে তাঁরা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন। সুপ্রিমকোর্টের তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে এই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাছাড়া বিভিন্ন ঘটনা খতিয়ে দেখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় আদিবাসী কমিশন সহ বিভিন্নজাতীয় কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, উপাচার্য, প্রাক্তন উপাচার্যরা রয়েছেন। তাঁদের সবার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা হোক রাজ্যে।

শিক্ষাবিদরা নিজেদের বিবৃতিতে বলেন, বাংলার জনগণের একটা বড় অংশ আতঙ্কের আবহাওয়ায় থাকছেন, কারণ তাঁরা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া ব্যক্তিরা এই হিংসার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি নিজেদের বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দেশের সংবিধান এবং নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান করা হয়েছে। তাছাড়া রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধের পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন সরকারকে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তৃণমূলের মদতে দুষ্কৃতীরা গ্রাম এবং শহরে থাকা মানুষদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। বহু মানুষের সম্পত্তি লুঠ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ খেতে পাচ্ছেন না। ভোট পরবর্তী হিংসায় বহু লোক মারা যাওয়াতে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভয়ের আবহে বাংলা থেকে মানুষ পার্শ্ববর্তী ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, অসমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। অভিযোগ, এতকিছু সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। রাজ্য সরকার এবং দুষ্কৃতীদের ভয়ে নাকি চুপ করে রয়েছে পুলিশ।

এই চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর প্রকাশ সিং, জওহরলাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গোবর্ধন দাস, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জেএসপি পাণ্ডে, কেরলের সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জয়া কর্মকার, ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গোপাল রেড্ডি এবং আরও অনেকে। চিঠিতে নাম রয়েছে মহাত্মা গান্ধী সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়, আচার্য নাগর্জুন বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়খণ্ড টেকনিকাল বিশ্ববিদ্যালয়, মহারাষ্ট্র মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের।

উল্লেখ্য, বহুদিন ধরেই বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ করে এসেছে যে, ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা ভয়াবহ। রাজ্য়জুড়ে রাজনৈতিক হানাহানি চলছে। আক্রান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। চলছে লুটপাট। সম্পত্তি নষ্ট করা হচ্ছে। আক্রান্তরা ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউ। আরও অভিযোগ, সব জেনেও উদাসীন রাজ্য়ের পুলিশ প্রশাসন তারা আক্রান্তদের অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও অভিযোগ দায়ের করছে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এই আবহে কয়েকদিন আগেই ভোট পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। তিন সদস্যের এই কমিটিতে থাকছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন, কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশন এবং রাজ্য লিগাল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। যে সমস্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ঘরে ফিরতে পারছেন না তাঁদের অবিলম্বে রাজ্য আইনি পরিষেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের লিগ্যাল এইড সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বন্ধ করুন