বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > নকল করায় কান ধরে ওঠবোস করালেন শিক্ষিকা, অপমানে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী ছাত্রী
অপমানে আত্মঘাতী ছাত্রী। ছবিটি প্রতীকী।
অপমানে আত্মঘাতী ছাত্রী। ছবিটি প্রতীকী।

নকল করায় কান ধরে ওঠবোস করালেন শিক্ষিকা, অপমানে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী ছাত্রী

  • সহপাঠীরাও তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল। কিন্তু, সেই অপমান কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি ওই ছাত্রী। শেষে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী হল দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

টেস্ট পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল এক ছাত্রী। আর তাতেই অপমানিত হতে হয়েছিল শিক্ষিকার কাছে। সহপাঠীরাও তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। কিন্তু, সেই অপমান কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি ওই ছাত্রী। শেষে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী হল দশম শ্রেণীর ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মঘাতী ছাত্রীর নাম পাপিয়া পাল। সে শরৎকুমারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। শান্তিপুর ব্লকের অন্তর্গত বেলঘড়িয়া দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নরসিংহ নগর এলাকার বাসিন্দা পাপিয়া। পরিবারের অভিযোগ, নকল করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ায় পাপিয়াকে কান ধরে ওঠবোস করানো হয়। তা দেখে সহপাঠীরা হাসাহাসি করে। এরপরে বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকের সঙ্গে কথা বলেনি পাপিয়া। স্কুল থেকে বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার নাম করে সোজা বাথরুমে ঢুকে পড়ে সে। এরপরেই বাথরুম পরিষ্কারের জন্য রাখা মিউরিয়েটিক অ্যাসিডের বোতল খুলে তা খেয়ে ফেলে।

দীর্ঘক্ষণ কেটে যাওয়ার পরে বাথরুম থেকে না বেরোনোয় পরিবারের লোকেরা তাকে ডাকাডাকি করতে শুরু করে। কিন্তু, কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে অবশেষে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন পরিবারের লোকেরা। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে ক্রমাগত পাপিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার জন্য শিক্ষিকাকে দায়ী করেছেন পাপিয়ার পরিবারের লোকেরা। ওই শিক্ষিকাকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। যদিও এই অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষিকা। তার দাবি তিনি ছাত্রীর সঙ্গে অপমানজনক কোনও ব্যবহার করেননি। ক্লাসে থাকা সিসিটিভি দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

বন্ধ করুন