বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > কুসংস্কারের বলি, সাপে কাটা নাবালিকাকে কলার ভেলায় নদীতে ভাসাল ‌পরিবার!
কুসংস্কারের বলি, সাপে কাটা নাবালিকাকে কলার ভেলায় নদীতে ভাসাল ‌পরিবার! ছবি (‌স্ক্রিন শর্ট)‌
কুসংস্কারের বলি, সাপে কাটা নাবালিকাকে কলার ভেলায় নদীতে ভাসাল ‌পরিবার! ছবি (‌স্ক্রিন শর্ট)‌

কুসংস্কারের বলি, সাপে কাটা নাবালিকাকে কলার ভেলায় নদীতে ভাসাল ‌পরিবার!

সারসা নদী থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে গোসাবা থানার পুলিশ।

আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও কুসংস্কারের বলি হল নাবালিকা। সাপে কামড়ানোর পর নাবালিকাকে হাসপাতালে নয়, ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই ওঝার বিরুদ্ধে ঝাড়ফুঁক করে নাবালিকাকে কলার ভেলায় ভাসানোর নিদান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়ে বেঁচে উঠবে, এই আশায় তাকে কলার ভেলায় ভসিয়েও দেন নাবালিকার বাবা।

খবর পেয়ে সারসা নদী থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে গোসাবা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নাবালিকার নাম পূজা মৃধা(১০)‌।তার মৃত্যুতে অভিযুক্ত ওঝার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের লোকেদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ওঝা নিদান দিয়েছিল, নদীতে কলার ভেলায় ভাসালে নাকি মৃত মেয়ে প্রাণ ফিরে পাবে। সেই কথা শুনে কলার ভেলায় মেয়েকে ভাসিয়ে দিলেন তার বাবা দীপ মৃধা। শুক্রবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের গোসাবার ছোট মোল্লাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর কালিদাসপুর গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে বাবার সঙ্গে ঘুমিয়েছিল পূজা। রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ ঘুমন্ত অবস্থাতেই সাপে কামড়ায় পূজাকে। সেই সময় মেয়েকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান তার বাবা দীপ। অভিযোগ, সেখানেই প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁক করা হয়। তার পর মেয়েকে কলার ভেলায় নদীতে ভাসানোর নিদান দেয় অভিযুক্ত ওঝা। কিন্তু ওই নাবালিকার শারীরিক অবস্থান অবনতি হলে তাকে তড়িঘড়ি ছোট মোল্লাখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান দীপ। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই মৃত্যু হয় ওই নাবালিকার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঠিক সময় নিয়ে এলে তার প্রাণে বাঁচানো যেত। 

বন্ধ করুন