বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘‌নন্দীগ্রামের হার হজম করতে না পেরে শুভেন্দুকে ফাঁসানো হচ্ছে’‌, দাবি ‌দিলীপের
দিলীপ ঘোষ। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
দিলীপ ঘোষ। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

‘‌নন্দীগ্রামের হার হজম করতে না পেরে শুভেন্দুকে ফাঁসানো হচ্ছে’‌, দাবি ‌দিলীপের

  • শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে আসরে নামলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

একে ত্রিপল চুরির ঘটনায় সরাসরি তাঁর নাম জড়ানো। অন্য দিকে, সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা অভিযোগে তাঁর ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরার গ্রেফতারি। এই দুই জোড়া ফলায় বিদ্ধ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁকে হয়ে আসরে নামলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে তাঁর মন্তব্য, ‘‌নন্দীগ্রামের হার হজম করতে না পেরে, শুভেন্দুকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে। যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এসেছেন, তাঁদের বদনাম করা হচ্ছে।’‌

শনিবারে শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর ভাই কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ত্রিপল চুরির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন কাঁথি পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, পুরসভার গুদাম থেকে ত্রাণের ত্রিপল বর্তমান প্রশাসকদের না জানিয়েই হাতিয়ে নিয়েছেন। আবার ওই রাতেই কলকাতার মানিকতলা এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন রাখাল বেরা। 

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে রাজ্য বিজেপি শিবিরে। কারণ, শুধু সরকারি চাকরিই নয়, বাঁধ কেলেঙ্কারির ঘটনাতেও অস্বস্তিতে বিজেপি। এই কেলেঙ্কারিরও অভিমুখে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন এই রাখাল পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। শুভেন্দুর অবশ্য পাল্টা দাবি, ‘তদন্ত করে দেখুক না। তাহলেই বোঝা যাবে। আমি কয়েকমাসের জন্য সেচমন্ত্রী হয়েছিলাম। তারপর লকডাউন জারি হয়। কোনও ফাইলে আমার সই নেই। কোনও মন্ত্রীকে কাজ করতে দেন না মুখ্যমন্ত্রী।’

অন্যদিকে, এই রাখাল শুভেন্দু অধিকারীর পিএ হিসাবে কাজ করেছেন। দিঘায় রাখালের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও রাখাল কন্টাই কো–অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টরও। শুধু তাই নয়, কলকাতায় তাঁর একটি ব্যবসাও রয়েছে। এমন বিত্তশালী রাখালের বিরুদ্ধেই ঘুষের বিনিময়ে সরকারি চাকরির টোপ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অশোকনগরের বাসিন্দা সুজিত দে মানিকতলা থানায় রাখাল সহ আরও কয়েকজন বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর কাছ থেকে সেচ দফতরের গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়ার নামে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন রাখাল। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরেও চাকরি পাননি বলে অভিযোগ সুজিতের। এই একই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে সেচ দফতরের প্রাক্তন কর্মী তথা কাঁথির বাসিন্দা চঞ্চল নন্দীরও। চাকরির জন্য এই চঞ্চলই সুজিতকে রাখালের কাছে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে ঘটনার পর থেকে চঞ্চল বেপাত্তা। পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাখালকে জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পৌঁছাতে তাঁরা সক্ষম হবেন বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

বন্ধ করুন