বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, নাম জড়াল শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠের
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার এক, নাম জড়াল শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার এক, নাম জড়াল শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, নাম জড়াল শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠের

অভিযোগ, ভুয়ো কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আড়ালে প্রতারণা চক্র ফাঁদ পেতে বসেছিল অভিযুক্ত।

এবার শিক্ষাক্ষেত্রেও বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠেরও। বৃত্তিমূলক শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুরে। এমনকী, চাকরিপ্রার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে বিভিন্ন সরকারি স্কুলে পাঠানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ। 

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কাঁথি কলেজ রোডে। অভিযোগ, একটি ভুয়ো কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আড়ালে প্রতারণা চক্র ফাঁদ পেতে বসেছিল অভিযুক্ত। প্রতারিত চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্তকে বীরভূম থেকে গ্রেফতার করেছে কাঁথি থানার পুলিশ। বুধবার ধৃতকে কাঁথি আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু কাঁথি নয়, একাধিক জেলায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল অভিযুক্তরা। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আর কে কে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম সুজিত পয়ড়্যা। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশের দাবি, এই প্রতারণা চক্রের তালিকায় আরও ১১জনের নাম রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরা ও হিমাংশু মান্নারও নাম রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কাঁথির কলেজ রোডে সিস্টার নিবেদিতা স্বাক্ষরতা মিশন নামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বসে সুজিত। ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আড়ালে বৃত্তিমূলক শিক্ষকতার চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ফাঁদ পাতে সে। অভিযোগ, এর জন্য সুজিত প্রথমেই তৈরি করে ফেলে ভুয়ো সরকারি লোগো দেওয়া ওয়েবসাইট। রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন স্কুলে বৃত্তিমূলক শিক্ষক পদে নিয়োগের ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয় ওই ওয়েবসাইটে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা যোগাযোগে করলে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে সুজিতের বিরুদ্ধে।

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে বিভিন্ন সরকারি স্কুলে পাঠাত সুজিত। এমনকী, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলে যোগদান করানো হত। প্রার্থীদের কাছে সরকারি নিয়োগপত্রে দেখে সন্দেহ হত না স্কুল কর্তৃপক্ষেরও। স্কুলে যোগদান করা প্রার্থীদের দু’‌তিন মাসের বেতনও দিত সুজিত। অবশ্য চাকরি দেওয়ার নামে তার আগেই লক্ষ লক্ষ টাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে তুলে নিত অভিযুক্ত।প্রতারিত এক যুবক সৌম্যব্রত পাল কাঁথি থানায় সুজিতের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে সুজিতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বন্ধ করুন