মহিলা সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি কাণ্ডে সাসপেন্ড হয়েছিলেন তন্ময় ভট্টাচার্য। তবে গতকাল সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন তন্ময়। দলের তরফ থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারের পরই তন্ময় বলেন, 'আমি আগে থেকেই বলে আসছি যে এটা একটা পরিকল্পিত কুৎসা।' এরপর তন্ময় জানান, সাসপেনশন প্রত্যাহারের পর মহম্মদ সেলিম তাঁকে ডেকেছিলেন। তবে বাম নেতার দাবি, তাঁর সাসপেনশন যে প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা বুঝতেই দেননি মহম্মদ সেলিম। এই নিয়ে তন্ময় বলেন, 'মহম্মদ সেলিম আমায় ডেকে পাঠান। চল্লিশ মিনিট কথা বলেন। আমার ভুল কোনটা। কোন চর্চা করা উচিত। একদম অভিভাবকের মতো আলোচনা করেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরে বুঝতে দেননি আমার সাসপেনশন উঠে গিয়েছে।' (আরও পড়ুন: বিচারে বিলম্বের জন্য এবার আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মাকেই দায়ী করলেন কুণাল ঘোষ!)
আরও পড়ুন: অতুল আত্মহত্যা মমলায় গ্রেফতার স্ত্রী নিকিতা, পুলিশের জালে শাশুড়ি-শ্যালকও
তন্ময়ের কথায়, 'যে চ্যানেলে ইন্টারভিউ নিয়েছিল। সেই চ্যানেলে ইন্টারভিউটা দেখানো হয়নি। রাজনৈতিক ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু টেলিকাস্ট কেন হল না? এর দায় ওই চ্যানেলের।' তিনি আরও বলেন, 'আমি প্রথম থেকে বলেছি এটা একটা পরিকল্পিত কুৎসা। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা জানা ছিল না আমার। তবে এখন সবটা জেনেছি। আইনি পদক্ষেপ করব। যে ভদ্রমহিলা ফেসবুক লাইভ করেছেন উনি পরিকল্পনার শিকার। ওঁর সম্মানহানি না হোক আমি চাইব।' (আরও পড়ুন: গলফগ্রিনে কাটা মুন্ডু কাণ্ডে মিলল বাকি দেহ, কেন শ্যালিকাকে খুন জামাইবাবুর?)
আরও পড়ুন: আরজি করের আটতলার ঘর কেন সিল করা হয়েছে? ফের মিলছে রহস্যের গন্ধ
তন্ময়ের সাসপেনশন প্রত্যাহারের বিষয়টি দলের হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করেন উত্তর ২৪ পরগনা সিপিআইএম সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী। এদিকে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম শুধুমাত্র জানিয়েছেন, তদন্তসাপেক্ষে সাসপেন্ড করা হয়েছিল তন্ময়কে। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। আর যেহেতু তদন্ত যতদিন চলবে, ততদিনের জন্য সাসপেন্ড করার কথা হয়েছিল, তাই সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেবে সিপিআইএম, তা জানানো হয়নি। এদিকে তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরে সিপিআইএমের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন তন্ময়। (আরও পড়ুন: গ্রেফতার ৪, সুনামগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে পদক্ষেপ পুলিশের)
প্রসঙ্গত, যে ঘটনার প্রেক্ষিতে তন্ময়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, সেটি প্রকাশ্যে এসেছিল ২৭ অক্টোবর। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার মধ্যেই পুরো পশ্চিমবঙ্গ যখন আন্দোলন চালাচ্ছে, তখন সিপিআইএম নেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছিলেন মহিলা সাংবাদিক। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর কোলে বসে পড়েছিলেন তন্ময়। যদিও সেই ঘটনা অস্বীকার করেছিলেন সিপিআইএম নেতা। এদিকে তন্ময়ের বিরুদ্ধে যে তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে কী আছে, সেটা স্পষ্ট নয়। আপাতত সে বিষয়ে সিপিআইএমের তরফে কিছু জানানো হয়নি। কবে তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসবে, সেটাও জানায়নি সিপিআইএম।