বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > 'ঘরে বসে বেতন নিতে লজ্জা হয়', স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে অ্যাম্বুলেন্স দান শিক্ষিকার
প্রতীকী ছবি (PTI)
প্রতীকী ছবি (PTI)

'ঘরে বসে বেতন নিতে লজ্জা হয়', স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে অ্যাম্বুলেন্স দান শিক্ষিকার

ঠিক করেন মাসিক কিস্তিতে অ্যাম্বুলেন্স কিনে সেটি জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের মাধ্যমে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দান করবেন।

করোনা আবহে আক্রান্ত মানুষদের সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন এক স্কুল শিক্ষিকা।করোনা রোগীদের ব্যবহারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স দান করলেন এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে।স্কুল শিক্ষিকার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।|

জলপাইগুড়ি জেলার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কেয়া সেন রাজগঞ্জের মান্তাদারি বিএফপি স্কুলের শিক্ষিকা।তাঁর স্বামী একজন ব্যবসায়ী।জলপাইগুড়ির ওই শিক্ষিকা জানান, অ্যাম্বুলেন্স দান তাঁর বড় ছেলে স্পন্দনের।তিনিই মাকে প্রস্তাব দেন যাতে অ্যাম্বুলেন্স কিনে তা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে তিনি দেন।কারণ, জলপাইগুড়িতে এই মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সের খুব প্রয়োজন।এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, 'প্রথমে জানতে পারলাম, একটি অ্যাম্বুলেন্স কিনতে ৭ লাখ টাকা লাগবে।'তখন তিনি স্বামী প্রবীর সেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।আলোচনা করে ঠিক করেন মাসিক কিস্তিতে অ্যাম্বুলেন্স কিনে সেটি জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের মাধ্যমে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দান করবেন।সেই মতো একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনেন তিনি ও তা ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে দেন।

স্কুলের শিক্ষিকা জানান, 'পুরো মাস ঘরে বসে মাইনে পাচ্ছি।এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।মাসে অন্তত ২৬ দিন আমাদের স্কুলে যাওয়ার কথা।এভাবে মাইনে নিতে লজ্জা লাগছিল।তাই একটি অ্যাম্বুলেন্স কিনে জেলা পরিষদের মাধ্যমে তা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিলাম।করোনা এই সংকটময় সময়ে সবাই এগিয়ে আসুন।যার যতটুকু আছে, তা দিয়ে সাহায্য করুন।সবাই এগিয়ে এলেই করোনাকে হারানো সম্ভব হবে।'

এই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকেও শিক্ষিকার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।সংস্থার সম্পাদক সুমন বসু রায় জানান, ওনার এই দান সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাজে আসবে।এই কাজ করে উনি খুব বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন।

বন্ধ করুন