বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > শিক্ষকদের মিড ডে মিল থেকে রেহাই দেওয়ার আবেদন, ইঁদুরকান্ডে পরপর সাসপেন্ড

শিক্ষকদের মিড ডে মিল থেকে রেহাই দেওয়ার আবেদন, ইঁদুরকান্ডে পরপর সাসপেন্ড

মিড ডে মিল থেকে শিক্ষকদের রেহাই দেওয়ার দাবি। প্রতীকী ছবি  (HT_PRINT)

প্রশাসন ও শিক্ষাদফতরের এই নির্দেশের জেরে অভিভাবকদের অনেকেই অত্যন্ত খুশি। তাঁদের দাবি যে খাবার ছাত্রদের দেওয়া হবে তা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। এব্যাপারে অবহেলা করা হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এতে কিছুটা হলেও আগামীদিনে সতর্ক হবেন শিক্ষকরা।

মিড ডে মিলের প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষকদের রেহাই দেওয়ার আবেদন করা শুরু করছেন শিক্ষকদের একাংশ। এদিকে মিড ডে মিলে টিকটিকি, ইঁদুর সাপ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়়েছে বাংলা জুড়ে। প্রাথমিক বিদ্য়ালয়ের মিড ডে মিলে কীভাবে এই ধরনের সাপ, টিকটিকি পড়ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের মধ্য়েও এনিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে একেবারে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন ও শিক্ষা দফতর।

মালদহের চাঁচলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের মজুত করা চালে মরা টিকটিকি ও ইঁদুর উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপরই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। কীভাবে মিড ডে মিলের চালের মরা টিকটিকি এল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে বিষয়টিকে একেবারেই হালকাভাবে নেয়নি প্রশাসন। একেবারে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, স্কুলের সহকারি পর্যবেক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমনকী এক চুক্তি ভিত্তিক কর্মীকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জারি হয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে মিড ডে মিলের গোটা প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বার বারই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মিড ডে মিলকে ঘিরে নানা অভিযোগ। শাসকদলের একাংশ অবশ্য় ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন এর পেছনে চক্রান্ত রয়েছে কি না তা দেখা দরকার।

তবে চাঁচলের ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার মধ্যে অভিভাবকরাও ছিলেন। এরপর মালদহের জেলা প্রশাসন এনিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

এরপর স্কুলে গিয়ে গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিদের নিয়ে তৈরি টিমের তদন্তে নানা গাফিলতি ধরা পড়ে। এরপরই সাসপেন্ডের নির্দেশ। শিক্ষাদফতরও এনিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তার জেরেই এবার বড় বিপাকে পড়লেন মিড ডে মিল প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তরা।

এদিকে শিক্ষকদের একাংশ ইতিমধ্যেই দাবি করতে শুরু করেছেন মিড ডে মিলের কর্মকান্ড থেকে শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। শিক্ষকদের শুধুমাত্র শিক্ষার কার্যক্রমের মধ্যেই রাখা হোক। এদিকে এই ঘটনায় শিক্ষকদের একাংশের স্নায়ুর চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

তবে প্রশাসন ও শিক্ষাদফতরের এই নির্দেশের জেরে অভিভাবকদের অনেকেই অত্যন্ত খুশি। তাঁদের দাবি যে খাবার ছাত্রদের দেওয়া হবে তা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। এব্যাপারে অবহেলা করা হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এতে কিছুটা হলেও আগামীদিনে সতর্ক হবেন শিক্ষকরা।

 

বন্ধ করুন