বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > পণের দাবিতে বিয়ে ভাঙার উপক্রম, ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা তরুণীর
(ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)
(ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)

পণের দাবিতে বিয়ে ভাঙার উপক্রম, ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা তরুণীর

  • পণের দাবিতে পাত্রপক্ষের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হয় তরুণীর বাড়ির সদস্যদের।

এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ আত্মহত্যার একটা ট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা। এই পরিস্থিতিতে এমনই একটা খবর সামনে আসে। চার বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় এবং তা থেকেই ঘনিষ্ঠতা। বিয়েও ঠিক হয়েছিল যুগলের। কিন্তু তারপরই তৈরি হল ভয়ানক সমস্যা।

অভিযোগ, পণের দাবিতে পাত্রপক্ষের পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হয় তরুণীর বাড়ির সদস্যদের। তার জেরে ‘ফেসবুক–লাইভ’ করে আত্মঘাতী হলেন নন্দিতা রায় (২১)। ব্যস, চরম পথ বেছে নিয়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন এক তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার রাজাপুর এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার নন্দিতার বাড়ির লোকেরা অভিযুক্ত তরুণ ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তরুণীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাবু দাস ও তাঁর মা প্রতিমাকে তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করে নন্দিতা সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন।

তবে কলকাতা পুলিশে কর্মরত বাবু অবশ্য ‘ফেসবুক লাইভের’ বিষয়টি দ্রুত বংশীহারি থানায় জানান বলে দাবি করেছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, বংশীহারি সিংহাদহের রাজাপুর এলাকার স্নাতকস্তরের ছাত্রী নন্দিতার সঙ্গে গঙ্গারামপুরের বেলবাড়ির বাসিন্দা কলকাতা পুলিশে কর্মরত বাবুর ফেসবুকে পরিচয় হয়। এই পরিচয় পরে ঘনিষ্ঠতায় গড়ায়। ২৫ নভেম্বর তাঁদের বিয়ের তারিখ পর্যন্ত ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু নন্দিতার আত্মীয় মনমোহন রায় অভিযোগ করেন, বিয়ে ঠিক হওয়ার সময় পাত্রপক্ষের কোনও দাবি নেই বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের দিন এগিয়ে আসতেই একের পর পণ ও যৌতুকের দাবি তোলা হচ্ছিল। যা মেনে নিতে পারেনি নন্দিতা। তাঁর মনে হয়েছিল এটা প্রতারণা। এই প্রতারণা থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া বলে মনে হয়।

আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল নন্দিতার পরিবার। ফলে বিয়ে ভেঙে যেতে পারে এই পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাই বাবাকে লোকলজ্জার হাত থেকে মুক্তি দিতেই নন্দিতা এমন পদক্ষেপ করেছেন বলে দাবি করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার রাতে বাবুকে জানিয়ে ‘ফেসবুক লাইভ’ করে আত্মহত্যা করেন নন্দিতা। কলকাতা থেকে বাবু বিষয়টি বংশীহারি থানায় জানান। থানা থেকে রাতেই নন্দিতার বাড়িতে এক সিভিককর্মীকে পাঠানো হয়। সিভিকের কথা শুনে বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে নন্দিতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

বন্ধ করুন