বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ধুপগুড়ির নিহত জওয়ান জগন্নাথ রায়ের নিথর দেহ ফিরল গ্রামের বাড়িতে
নীহত জওয়ান জগন্নাথ রায় ও তাঁর পরিবার (‌ছবি পারিবারিক অ্যালবাম থেকে)‌
নীহত জওয়ান জগন্নাথ রায় ও তাঁর পরিবার (‌ছবি পারিবারিক অ্যালবাম থেকে)‌

ধুপগুড়ির নিহত জওয়ান জগন্নাথ রায়ের নিথর দেহ ফিরল গ্রামের বাড়িতে

  • গান স্যালুটের মাধ্যমে তাঁদের সেনানিকে শেষ শ্রদ্ধা জানায় সিআরপিএফ

অবশেষে ধুপগুড়ির নিহত জওয়ান জগন্নাথ রায়ের নিথর দেহ ফিরল তাঁর গ্রামের বাড়িতে। ছেলের মরদেহ ফিরতেই শোকে পাথর হয়ে গিয়েছে আত্মীয়—স্বজন থেকে শুরু করে গোটা গ্রাম। বাঁধ মানেনি চোখের জল।

কাশ্মীর থেকে সিআরপিএফের এই বীর জওয়ানের নিথর দেহ বাগডোগরার মাটি ছুঁতেই, ভোঙে পড়ে গোটা গ্রাম। বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দরের মাটি ছোঁয়ে শহিদ জগন্নাথ রায়ের নিথর দেহ। সেখান থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সিআরপিএফের কাওয়াখালী ক্যাম্পে। সেখানে শহিদ জওয়ানকে সম্মান জানান সিআরপিএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এরপর তাঁর নিথর দেহ বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান সিআরপিএফের কর্মী ও আধিকারিকেরা।সেখানে গান স্যালুটের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় তাঁদের সেনানিকে।

গত ২৫ মার্চ কাশ্মীরের লাওয়াপুরাতে শ্রীনগর–বারামুলা জাতীয় সড়কের উপর টহল দেওয়ার সময় সিআরপিএফ–এর ৭৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের উপর হামলা হয়। আচমকাই জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে ৩—৪জন জঙ্গিরা।

সেই ঘটনায় শহিদ হয়েছিলেন দুই জওয়ান। আর তিনজন জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আহত জওয়ানদের মধ্যে একজন ছিলেন বাংলার বাসিন্দা জগন্নাথ রায়। ধুপগুড়ির পশ্চিম শালবাড়িতে থাকতেন তিনি। উল্লেখ্য, এই হামলার জন্য লস্কর–ই–তৈবার জঙ্গিরাই দায়ী বলে জানিয়েছিল কাশ্মীর পুলিশ।

শনিবার জগন্নাথকে দেখতে লাউয়াপুরার সোনা হাসপাতালে পৌঁছন জগন্নাথের দাদা, শ্যালক-সহ পরিবারের ৩ সদস্য। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানাতে পারেন, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন জগন্নাথ।

জগন্নাথ রায়-সহ আরও এক জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁদের বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী তরফ থেকে পরিবারকে জানানো হয় প্রয়াত হয়েছেন জগন্নাথ। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানতে হয় বাঙালি জওয়ানকে। ৩৩ বছরের সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর খবরে তাঁর পশ্চিম শালবাড়ির বাড়িতে কান্নার রোল ওঠে।

অনেক আগেই প্রয়াত হয়েছিলেন জগন্নাথের বাবা। ধুপগুড়ির পশ্চিম শালবাড়ির বাড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্য বলতে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধা মা প্রমীলা রায়, দাদা, বৌদি, ভাইপো, তাঁর এক সন্তান ও স্ত্রী। জগন্নাথের মৃত্যু খবর শুনে গোটা পরিবার শোকে পাথর হয়ে গিয়েছে। এদিন জগন্নাথের নিথর দেহ আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকেরা। নিহত জওয়ানের স্ত্রীর চোখে দেখা যায় শুধুই শূন্যতা। তাঁদের সন্তান এখন এতটাই ছোট যে, সে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।

 

 

বন্ধ করুন