বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > মিহিরের কেন্দ্রে চরমে তৃণমূলের 'গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব', ডিসেম্বরের মাঝে যেতে পারেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এএনআই)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এএনআই)

মিহিরের কেন্দ্রে চরমে তৃণমূলের 'গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব', ডিসেম্বরের মাঝে যেতে পারেন মমতা

কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শাসক শিবিরের অন্দরে ‘দ্বন্দ্ব’ তুঙ্গে উঠেছে।

মিহির গোস্বামী সবেমাত্র ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে গিয়েছেন। তারমধ্যেই এখন শুরু হয়ে গিয়েছে মিহিরের বিধানসভা কেন্দ্রের দখল কে নেবে। সুতরাং মিহিরের যে অভিযোগ ছিল, দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে এবং তৃণমূল আর দিদির দল নেই, তা প্রকাশ্যে এসে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শাসক–শিবিরের অন্দরে ‘দ্বন্দ্ব’ তুঙ্গে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কোচবিহার সফরে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগামী ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর কোচবিহারে আসার কথা তাঁর।

এদিকে দলের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, এই কেন্দ্র তথা মিহির গোস্বামীর পদ দখল করতে আসরে নেমেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়, যুব সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, দলের দুই সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল আহমেদ এবং খোকন মিয়াঁ। মেখলিগঞ্জের বিধায়ক তথা কোচবিহার জেলা তৃণমূলের কো–অর্ডিনেটর অর্ঘ্য রায় প্রধানও কর্মসূচি শুরু করেছেন ওই এলাকায়। সুতরাং এখানে এখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি দলের ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কোচবিহার সফরে আসতে পারেন। আমরা সেরকমই জেনেছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। শহর এবং শহর লাগোয়া ন'টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। ওই বিধানসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। বিজেপি এখানে কিছু করতে পারবে না।' এই মন্তব্য যে মিহিরের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা মনে করছেন এই এলাকার অনেকেই।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ওই বিধানসভা থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হন আবদুল জলিল আহমেদ। তবে তিনি জিততে পারেননি। ২০১৬ সালে ওই কেন্দ্রে মিহির গোস্বামীকে প্রার্থী করা হয়েছিল। তিনি জয়ী হয়েছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর থেকে ৬,৫০০-এর মতো ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। শহর এলাকায় এগিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু গ্রামে তৃণমূলেরই দাপট ছিল। মিহির বিজেপিতে চলে যাওয়ায় ওই জায়গা ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। জলিল আহমেদ তাঁর পুরনো জায়গা ফিরে পেতে চাইছেন। খোকন মিয়াঁ কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। তিনিও ওই জায়গার রাশ নিজের হাতে নিতে চাইছেন।

তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, মিহিরের দলত্যাগে কর্মীদের একটি অংশের মনোবলে ধাক্কা লেগেছে। যদিও তৃণমূল নেতাদের আর অপর অংশের দাবি, মিহিরকে এলাকায় দেখা যেত না। তাই তাঁর দলত্যাগে কোনও ক্ষতি হবে না। দলীয় সূত্রে খবর, যে এলাকাগুলিতে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেখানেই যাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী। তাই ওই বিধানসভা কেন্দ্রেই তাঁর সভা হওয়ার কথা।

বন্ধ করুন